হাসনাত-আসিফের বিরুদ্ধে উঠছে গুরুতর অভিযোগঃ জুলাই কি হয়েছিল ক্ষমতা ব্যাবহার করে উন্নয়নের বরাদ্দ তুলে নেয়ার জন্য?


হাসনাত-আসিফের বিরুদ্ধে উঠছে গুরুতর অভিযোগঃ জুলাই কি হয়েছিল ক্ষমতা ব্যাবহার করে উন্নয়নের বরাদ্দ তুলে নেয়ার জন্য?

কুমিল্লার দেবীদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। সৌরবাতি স্থাপন ও রাস্তা সংস্কারের নামে বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ না হওয়ার অভিযোগে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

কাগজে বাতি, বাস্তবে অন্ধকার
দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের প্রেমু গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, হাসনাত আবদুল্লাহর বাজেটে তাঁদের গ্রামে কোনো সৌরবাতি বসেনি। অথচ বরাদ্দের তালিকায় গ্রামটির নাম স্পষ্ট রয়েছে। গ্রামের সামনে যে একটি সৌরবাতি দেখা যাচ্ছে, সেটি আওয়ামী লীগ আমলে রাজীব মুন্সীর বাজেটে স্থাপিত বলে জানান স্থানীয়রা।

পাইবাড়ি এলাকার একজন বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হাসনাত আবদুল্লাহর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় পইয়াবাড়ি দোকানের পাশে একটি সৌরবাতি বরাদ্দের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো বাতিই নেই।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “সোলার লাইট বসানোর নাম করে এই টাকা আসলে কোথায় গেল? যতগুলো লাইট বরাদ্দ হয়েছে, তার তিন ভাগের এক ভাগও বাস্তবে পাওয়া যাচ্ছে না।”

আবেদন করেও বাতি পাননি, তালিকায় নাম আছে দুটি
দেবীদ্বারের বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন জানান, গত নভেম্বরে তিনি ইউএনও বরাবর তাঁর বাড়ির সামনে সৌরবাতি স্থাপনের জন্য আবেদন করেন। লবিং বা তদবির না করায় তিনি বাতি পাননি। কিন্তু প্রকাশিত বরাদ্দের তালিকায় দেখা যাচ্ছে, তাঁর বাড়ির সামনে দুটি সৌরবাতি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে — বাস্তবে একটিও লাগানো হয়নি।

“এই সৌরবাতি আসলে কোথায় বসেছে? বাতি বরাদ্দের নাম করে কারা এই টাকা মেরে দিয়েছে?” — প্রশ্ন করেন তিনি।

রাস্তা সোলিং-এও একই চিত্র
সৌরবাতির বাইরেও রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসনাত আবদুল্লাহর লোকজন রাস্তায় সোলিং কাজের বিল তুলে নিয়ে চলে যান, কিন্তু ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেননি। পরে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরা চাঁদা তুলে সেই কাজ শেষ করেন।

১০ ও ১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ তুলে নেওয়ার অভিযোগ
কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া গত ৩০ মে (শনিবার) এক বক্তব্যে দাবি করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ দেবীদ্বারের জন্য ১০ কোটি এবং আসিফ মাহমুদ মুরাদনগরের জন্য ১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ উত্তোলন করে নিয়ে যান।

আসিফ মাহমুদ কাজের কোনো বিবরণ প্রকাশ না করায় মুরাদনগরের এলাকাবাসী নিশ্চিত হতে পারছেন না কাজ আদৌ হয়েছে কি না। তবে হাসনাত আবদুল্লাহ কাজের ফিরিস্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাঁর উপস্থাপনায় যে কাজগুলো সম্পন্ন বলে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে তার বড় অংশ হয়নি বলে এলাকাবাসী জানাচ্ছেন।

প্রশ্ন উঠছে সংস্কারের দাবি নিয়েও
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠছে — কোন এখতিয়ারে এনসিপি নেতারা নির্বাচনের আগেই চলতি অর্থবছরের উপজেলা উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ নিজস্ব ঠিকাদারদের মাধ্যমে তুলে নিলেন?

নিজস্ব ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে বিল তোলার এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই জুলাই আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন ছাত্রনেতারা। অথচ দেখা যাচ্ছে, ইউনূস সরকারের আমলেই সেই একই পদ্ধতিতে ক্ষমতার ব্যবহার করে বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে — কখনো কাজ করে, কখনো অর্ধেক করে, কখনো একেবারে না করেই।

এই পরিস্থিতিতে “সংস্কার” শব্দটি নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।