আদালতে শিরীন শারমিন, কারাগারে আটক রাখার আবেদন


আদালতে শিরীন শারমিন, কারাগারে আটক রাখার আবেদন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজধানীর লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে আনা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। ​কারাগারে রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাকে জেল হাজতে আটকে রাখা প্রয়োজন। কারাগারে আটক রাখার বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে শুনানি হবে। মামলার অভিযোগ সূত্র অনুযায়ী, ২৪ এর ১৮ জুলাই কোটা আন্দোলন চলাকালে আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে ছাত্র-জনতার একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশের সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন। এতে মো. আশরাফুল নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তার বাম চোখ ভেদ করে গুলি রেটিনার পেছনে চলে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর ধানমন্ডি এলাকা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী, ঘটনার দিন (কমপ্লিট শাটডাউন চলাকালে) এবং আন্দোলনের অন্যান্য সময়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তার সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই মামলার সহিংস ঘটনাগুলো ঘটেছে।