জাল দলিলের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা


জাল দলিলের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে অসুস্থ ব্যক্তিকে ভুল বুঝিয়ে ও সাক্ষীর স্বাক্ষর জাল করে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগে দলিল লেখকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) উপজেলার রামদিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম মিটু বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন দলিল লেখক শাহ আলমগীর (৫৫), শুভ মোল্যা (৩০) ও তার মাতা রিনু বেগম (৬০)। তাদের সকলের বাড়ি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে। বাদীপক্ষের আইনজীবি আজগার আলী খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী রাকিবুল ইসলাম মিটুর পিতা আবুল হাসেম মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও শয্যাশায়ী ছিলেন। হাসেম মোল্যাকে তার ভাইয়ের স্ত্রী রিনু বেগম ও ভাতিজা শুভ মোল্যা বোঝান যে, ভবিষ্যতে তাদের দুই ভাইয়ের রেকর্ডীয় জমি বিক্রির সুবিধার জন্য নামজারি (মিউটেশন) করা প্রয়োজন। নামজারির আবেদন ফরমে তার স্বাক্ষর করার কথা বলে তাকে রাজি করান। এ সুযোগে গত ১৩ জুন ২০২৪ তারিখে তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রারকে কৌশলে হাসেম মোল্যার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে নামজারির আবেদন ফরমে স্বাক্ষর না নিয়ে কৌশলে জাল দলিলে আবুল হাসেম মোল্যার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। দলিলে দাতা হিসেবে তার স্বাক্ষর নিয়ে ভাতিজা শুভ মোল্যা রামদিয়া মৌজার, এসএ ৬৯৮ নং খতিয়ানের ৩২৩ নং দাগের ১৮.৫ শতাংশ জমি হেবা দলিল মূলে নিজের নামে লিখে নেন। এছাড়া মামলার বাদী চাকরির সুবাদে সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় তার স্বাক্ষর জাল করে সাক্ষী দেখানো হয়েছে। দলিল লেখক শাহ আলমগীর জাল দলিলের কাজে সহযোগিতা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে হাসেম মোল্যার মারা যাওয়ার পর তার ছেলে রাকিকুল ইসলাম মিটু বিষয়টি জানতে পারেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ বিষয় অভিযুক্ত দলিল লেখক শাহ আলমগীরের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে জমিদাতা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছিলেন। যে কারণে তৎকালীন সাব রেজিস্ট্রার শাহ আরিফ তার বাসায় গিয়ে কমিশনে দলিলটি সম্পাদন করেন। বাকী অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।