আত্রাইয়ে বৈদ্যুতিক বিভ্রাট চরমে নাকাল জনজীবন
নাসির উদ্দিন, উপজেলা সংবাদদাতা, আত্রাই, নওগাঁ
আত্রাইয়ে বৈদ্যুতিক বিভ্রাট চরমে নাকাল জনজীবন,আত্রাইয়ে NLDC(ন্যাশনাল
লোড ডেসপাস সেন্টার) থেকে আত্রাইয়ের জন্য লোড বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট যা চাহিদার তুলনায় অর্ধেক। সেই কারণে ব্যাপক লোডসেভ করতে হচ্ছে।
নওগাঁর আত্রাইয়ে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় জনজীবন হাঁপিয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের বিরক্তিকর এই যাওয়া-আসাকে সাধারণ মানুষ এখন মিসকল বলে ব্যঙ্গ করে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে উপজেলা মহলের ক্ষোভ তুলে ধরে...
গ্রাহক হোসেন বলেন, দিনে ও রাতে কতবার বিদ্যুৎ যায় তার কোনো হিসাব নেই। আর যখন আসে মটর ছেড়ে পানি উঠানো যায় না। সব মিলিয়ে বাজে একটা অবস্থা।
গোলাম মুর্শেদ বলেন, আত্রাই বিদ্যুৎ অফিসের প্রধানতো খুবই ক্ষমতাধর মানুষ। উনিতো ধরাকে সরাজ্ঞান ভাবেন। বিদ্যুৎ সেবায়, বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে আত্রাইয়ের মানুষ বেশি অবহেলিত।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট উপজেলায় বর্তমানে জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।ব্যবসা থেকে শুরু করে বাচ্চাদের পড়া লেখা সবই বিঘ্নিত। শ্বাসকষ্টের রুগী সেবা নিতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা কষ্ট করছে, এ সমস্যার সমাধান কি?
উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তীব্র দাবদাহের ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আত্রাই উপজেলাবাসিকে ভোগাচ্ছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। প্রচুর গরমে সারাদিন বিদ্যুতের আসা-যাওয়া, রাতেও থাকছে না বিদ্যুৎ। এতে অনেক বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধদের। বর্তমানে নেই বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প, একটু বৃষ্টি হলেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ নেই । বিদ্যুতের যাওয়া-আসা ও লো-ভোল্টেজ আপ-ডাউনের ফলে নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজ, টিভিসহ ইলেকট্রিক পণ্য।
বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে অতিষ্ঠ সমগ্র উপজেলা। এই ভোগান্তির জন্য পল্লি বিদ্যুৎ বোর্ডের (পিবিএস) অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন উপজেলাবাসী। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট সম্পর্কে কাপড় ব্যবসায়ী রজত কুমার বলেন, কয়েক দিন ধরে খুব গরম পড়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ চলে যায় বিদ্যুৎ। মাঝেমধ্যে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিদ্যুতের দেখা মেলে না। এতে চরম কষ্ট পোহাতে হয় আমাদের। বিদ্যুৎ অফিসে বারবার ফোন দিলেও কেউ কল রিসিভ করে না।
উপজেলার মিল ব্যবসায়ী বিমল চন্দ্র বলেন, মিনিটে মিনিটে বিদ্যুৎ মিসকল দেয়। দোকানদাররা ঠিকমত ব্যবসা করতে পারছেন না। বিদ্যুৎ চলে গেলেই দোকান অন্ধকার, গরমে বসে থাকা যায় না। ধান, চাল, মসলা ভাঙানো মেশিন বারবার বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে কষ্টের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশও। এই গরমে বিদ্যুৎ-সমস্যা কবে নাগাদ সমাধান হবে কে জানে?
আত্রাই পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মো.রাজু হোসেন বলেন,বিদ্যুৎ বিভ্রাট বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা। আত্রাইয়ে NLDC(ন্যাশলান লোড ডেসপাস সেন্টার) থেকে আত্রাইয়ের জন্য লোড বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট যা চাহিদার তুলনায় অর্ধেক। সেই কারণে ব্যাপক লোডসেভ করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো.জসিম উদ্দিনের মুঠোফোন একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
