যশোর-২ আসনে পরাজয়: বিএনপিতে প্রকাশ্য কোন্দল, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ


যশোর-২ আসনে পরাজয়: বিএনপিতে প্রকাশ্য কোন্দল, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
যশোরের ঝিকরগাছা–চৌগাছা নিয়ে গঠিত যশোর-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নির পরাজয়ের পর দলটির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে তিনটায় ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দুই উপজেলা বিএনপির নেতারা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান (সামাদ নিপুন) লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সাবিরা সুলতানা তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলাম হত্যার আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো নাজমুল হত্যার বিচার দাবি করেননি। রাজনীতিতে তিনি অদূরদর্শী ও অদক্ষ। দলীয় নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করে একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতারা দলে জায়গা পাননি এবং অনেকেই তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীরা নির্বাচনে সাবিরা সুলতানার পক্ষে কাজ করলেও তিনি তাঁদের সন্দেহের চোখে দেখেছেন। ফলে নির্বাচনে পরাজয়ের দায় এখন অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোর্তজা এলাহী এবং চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাবিরা সুলতানা বলেন, সংবাদ সম্মেলনকারীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যারা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে তাঁকে পরাজিত করার জন্য কাজ করেছে। তিনি দাবি করেন, চৌগাছা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং ব্যালটে তাঁর নামও ছিল। সাবিরা সুলতানা আরও অভিযোগ করেন, এই নেতারা বিশেষ সময়ে দলের বিপক্ষে কাজ করেন। ৫ আগস্টের আগে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে কাজ করেছেন। পরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িত ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন এবং জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করে আর্থিক লেনদেন করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যশোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের কাছে পরাজিত হন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের পর থেকে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ অব্যাহত থাকলে সামনে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, সংসদ নির্বাচনে আমরা পরাজিত হয়েছি। দলের ভেতরে বিভক্তি থাকলে স্থানীয় নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই আমরা বিভক্তি ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করতে চাই। অন্যদিকে সাবিরা সুলতানা বলেন, দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে শিগগিরই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করবেন।

সর্বশেষ :

বন্ধুত্বের হাত, ভেতরে অবিশ্বাসের রাজনীতি   বন্ধুত্বের হাত, ভেতরে অবিশ্বাসের রাজনীতি চালু হতে না হতেই অচল ‘ফুয়েল পাস অ্যাপ’, তেলের অপেক্ষা আগের মতোই   চালু হতে না হতেই অচল ‘ফুয়েল পাস অ্যাপ’, তেলের অপেক্ষা আগের মতোই নিজেদের “জুলাই প্রোডাক্ট” আখ্যা দিলেন জামায়াতের আমির শফিকুর   নিজেদের “জুলাই প্রোডাক্ট” আখ্যা দিলেন জামায়াতের আমির শফিকুর আকণ্ঠ ঋণে নিমজ্জিত অর্থনীতি: অন্তর্বর্তীকাল থেকে নতুন সরকার- ৪৩ দিনে আরও ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ   আকণ্ঠ ঋণে নিমজ্জিত অর্থনীতি: অন্তর্বর্তীকাল থেকে নতুন সরকার- ৪৩ দিনে আরও ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ ব্যাংকগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতিতেই নিঃস্ব উদ্যোক্তারা, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ   ব্যাংকগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতিতেই নিঃস্ব উদ্যোক্তারা, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ নেতানিয়াহুর ভয়ে পোস্ট ডিলিট করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী!   নেতানিয়াহুর ভয়ে পোস্ট ডিলিট করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী! নারী বিশ্বকাপে থাকছে রেকর্ড প্রাইজমানি   নারী বিশ্বকাপে থাকছে রেকর্ড প্রাইজমানি জুলাই-আগস্টের ৭.৬২ মি.মি. বুলেটের সুত্র অনুসন্ধান: বরখাস্তকৃত লেঃ কর্নেল ও সেনাবাহিনীর আর্টিলারি বিভাগের সম্পৃক্ততা   জুলাই-আগস্টের ৭.৬২ মি.মি. বুলেটের সুত্র অনুসন্ধান: বরখাস্তকৃত লেঃ কর্নেল ও সেনাবাহিনীর আর্টিলারি বিভাগের সম্পৃক্ততা