আত্রাইয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী দ্বারা হেনস্তার শিকার ২ সাংবাদিক


আত্রাইয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী দ্বারা হেনস্তার শিকার ২ সাংবাদিক
নওগাঁর আত্রাই উপজেলা এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার দুই সাংবাদিক। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা এলজিইডি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও আত্রাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি উত্তাল মাহমুদ এবং দৈনিক সংবাদ উপজেলা প্রতিনিধি কাজী রহমান। জানা যায় প্রায় সময় নিজেদের সেচ্ছাচারিতায় কর্মকর্তা কর্মচারীরা অফিসে দেরি করে আসে, এবিষয়ে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ সহ উপজেলার ভাগ সুন্দর বিশা’ সড়ক সংস্কার কাজের অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা এলজিইডি অফিসে যান। এতেই ঘটে বিপত্তি, এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইলে অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। সাংবাদিক উত্তাল মাহমুদ জানান,গত তিনদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবারও সকাল থেকে অপেক্ষা করার পর তিনি দেরিতে অফিসে আসেন। দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।ইতিপূর্বে এই রাস্তাটির সংস্কারের অনিয়ম বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে উপজেলা প্রকৌশলী নীতিশ কুমার জানান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে জানানো হবে তথ্য দেওয়া যাবে কিনা। তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে আমরা রুম থেকে বের হলে অফিস সহায়ক এমদাদ, অফিস সহকারী সালাম ও কম্পিউটার অপারেটর দীপ্ত হঠাৎ আমাদের ওপর চড়াও হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং হেনস্থা করেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে সাংবাদিক কাজী রহমান বলেন,আমি তাদের ভদ্রভাবে কথা বলতে বললে তারা উল্টো আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। আমাকে ‘চুপ কর’, ‘বের হয়ে যা’ বলে হুমকি দেয়। এমনকি আমাকে দেখে নেওয়ার কথাও বলা হয়। তিনি আরও বলেন,সরকারি দপ্তরে তথ্য নিতে গিয়ে যদি সাংবাদিকরা এভাবে হেনস্তার শিকার হন, তাহলে সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রকৌশলী নীতিশ কুমারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য দেন নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. আলাউল ইসলাম বলেন, “কোনো সংবাদকর্মী তথ্য চাইলে তা না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে সহযোগিতা করা উচিত ছিল। বিষয়টি আমি জেনেছি, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে নিবার্হী প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ বদরুদ্দোজা বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।