ইরান-ইসরাইল যুদ্ধেও যে কারণে বাড়ছে না স্বর্ণের দাম


ইরান-ইসরাইল যুদ্ধেও যে কারণে বাড়ছে না স্বর্ণের দাম
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ ১৮তম দিনে পদার্পণ করলেও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। সাধারণত বৈশ্বিক সংঘাত বা অস্থিরতার সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, কিন্তু স্পট গোল্ডের দাম ৫,০০০ ডলারের আশেপাশে থমকে আছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের দাম না বাড়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন। সুদের হার বাড়লে ডলার আরও শক্তিশালী হয় এবং স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। দ্বিতীয়ত, চলতি বছরের শুরু থেকেই স্বর্ণের দাম ঐতিহাসিকভাবে অনেক উঁচুতে অবস্থান করছিল, যা নতুন করে দাম বাড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষক রেবেকা ক্রিস্টি জানিয়েছেন, ডলার শক্তিশালী হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ডলারে কেনাবেচা হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন করে দাম বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বর্তমান বাজারে স্বর্ণকে একটি \'স্পেকুলেটিভ\' বা ফটকা সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর অস্থির আচরণের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মতো বড় বিনিয়োগকারীরা এখন কিছুটা ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন আসতে হলে দুটি বিষয় ঘটা প্রয়োজন। মে মাসে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধানের পক্ষ থেকে সুদের হার কমানোর কোনো ইঙ্গিত এবং এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার স্পষ্ট আশঙ্কা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা যুদ্ধটি দ্রুত শেষ হতে পারে, তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং ক্ষয়ক্ষতি বাড়লে আবারও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের কদর বাড়তে পারে। সূত্র: আলজাজিরা।