চক্রকে হ্যান্ডলিং ঠিকাদারি দেওয়ার পাঁয়তারা


চট্টগ্রাম জেলার ১৬ খাদ্য গুদামের হ্যান্ডলিং (লোড-আনলোড) ঠিকাদারি একটি বিশেষ চক্রকে দিতে পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। এজন্য টেন্ডার শিডিউলে অদ্ভুত শর্ত বা এসটিডি (স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট) আরোপ করা হয়েছে। এসব শর্ত বাতিলের দাবিতে ৮২ ঠিকাদার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শর্ত দেখে খোদ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও বিস্মিত। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তারা হ্যান্ডলিং ঠিকাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করেছেন। মন্ত্রণালয় এসটিডি পরিবর্তন করলে তারাও পরিবর্তিত দরপত্র আহ্বান করবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, হাবিলদারবাসা, হাটহাজারী, কাটিরহাট, নাজিরহাট, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চানপুর ও আনোয়ারা এলএসডির (লোকাল স্টোরেজ ডিপো) শ্রম ও হস্তার্পণ ঠিকাদার (হ্যান্ডলিং) নিয়োগ দরপত্র আহ্বান করেন। পাঁচ মানদণ্ডে ২০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বর পেলে হ্যান্ডলিং ঠিকাদারি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান। পাবলিক পরীক্ষা পাশের মতো হ্যান্ডলিং ঠিকাদার নিয়োগের এ মানদণ্ড নিয়ে চট্টগ্রামে খাদ্য বিভাগে চলছে তোলপাড়। একইভাবে সারা দেশে ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ম কার্যকর হলে প্রতি বছর সরকারের শত কোটি টাকা গচ্চা যাবে বলেও জানিয়েছেন ঠিকাদারি কাজে নিয়োজিতরা। তারা বলছেন, মূলত একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দিতেই ১০০ নম্বর প্রাপ্তির মানদণ্ড চালু করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে সারা দেশে ৮-৯ জন ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নিতে পারবেন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বেশি দামে পণ্য হ্যান্ডলিং টেন্ডার হাতিয়ে নিতে পারবে তারা। এসটিডি নথি ঘেঁটে দেখা যায়, দাখিল সর্বনিম্ন দরের সমতার ক্ষেত্রে অতীত কার্যসম্পাদনের উৎকর্ষ বিবেচনায় সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হবেন। মোট ১০০ নম্বরের ওই ৫ মানদণ্ডে রয়েছে-১. খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন স্থাপনায় কাজের অভিজ্ঞতা (৫ বছর/তদূর্ধ্ব)। সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতাকে পূর্ণমান ধরে মার্কিং করা হবে। ২. খাদ্য অধিদপ্তরে আওতাধীন স্থাপনায় সম্পাদিত চুক্তির সংখ্যা (১০ বছরে)। সর্বোচ্চ চুক্তির সংখ্যাকে পূর্ণমান ধরে মার্কিং করা হবে। ৩. খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন স্থাপনায় সম্পাদিত কাজের জন্য গৃহীত মোট বিলের পরিমাণ (১০ বছরে)। সর্বোচ্চ বিলের পরিমাণ পূর্ণমান ধরে মার্কিং করা হবে। ৪. খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন স্থাপনায় একটি চুক্তির অধীন সরবারহকৃত সর্বোচ্চ শ্রমিক সংখ্যা (১০ বছরে)। সর্বোচ্চ শ্রমিক সংখ্যা পূর্ণমান ধরে মার্কিং করা হবে। ৫. খাদ্য অধিপ্তরের আওতাধীন স্থাপনায় কার্য সম্পাদনকালে চুক্তি ভঙ্গের জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত কিনা। প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলে কোনো নম্বর পাবে না। আর না হলে ২০ নম্বর পাবে। মন্ত্রণালয়ে মেসার্স ইমরান অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্যাডে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দরপত্রের মানদণ্ড ৩ ও ৪-এ যে বিশেষ শর্ত আরোপ করা হয়েছে তার শতভাগ হাসান অ্যান্ড কোং, আসাদ ট্রেডিং, তানজিলা এন্টারপ্রাইজ এবং রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজের নেতৃত্বে আরও ২-৩ জনের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কোনো ঠিকাদারের নেই। খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশেষ চক্রকে কাজ পাইয়ে দিতে এসটিডি পদ্ধতিতে যাতে দরপত্র আহ্বান করা হয় সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করেছেন। এমন অভিযোগ এনে ৮২ ঠিকাদার ওই দরপত্র বাতিল করতে খাদ্যমন্ত্রী, খাদ্য সচিব এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন। চট্টগ্রাম জেলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও টেন্ডার কমিটির সদস্য সচিব ফখরুল আলম বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঠিকাদারদের একটি পক্ষ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছে শুনেছি। মন্ত্রণালয় এসটিডি পরিবর্তন করলে পরিবর্তিত টেন্ডার আহ্বান করা হবে।