জনতার ক্ষোভের মুখে আ.লীগ নেতাকে নিতে পারল না পুলিশ


জনতার ক্ষোভের মুখে আ.লীগ নেতাকে নিতে পারল না পুলিশ
কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার আলীর বাড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়েছে পুলিশ। ওই নেতার ছেলে পারভেজ আনোয়ার তনুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছে বলে খবর ছিল পুলিশের কাছে। তবে কাউকেই আটক করা সম্ভব হয়নি। এমনকি আনোয়ার আলী বাড়িতে থাকলেও এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‌্যাবের সদস্যরা ওই অভিযান চালায়। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার আলী বাড়িতে থাকলেও স্থানীয়রা তাকে থানায় নিতে দেয়নি। অভিযানের সময় আনোয়ার আলীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন এলাকাবাসী। স্থানীয় ব্যবসায়ী সামাদ বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে কুষ্টিয়ায় হানিফের বাইরে কেউ কথা বলতে পারেনি। বিএনপি-জামায়াত, জাতীয় পার্টি সবাইকে পিটিয়ে ঘরে তুলে দিয়েছিল। একমাত্র আনোয়ার মেয়রের পরিবার হানিফের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তার সম্মান ক্ষুণ্ন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তা হতে দেব না। অটোচালক সাইদুল বলেন, তিনি (আনোয়ার) বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তা করলে ৫ আগস্টের পরে বাড়িতে থাকতে পারতেন না। সাবেক মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, একটি বাড়ি তল্লাশি করতে হলে ওয়ারেন্ট লাগে। কোনো ওয়ারেন্ট নাই অথচ আমার বাড়ির প্রতিটি ঘরে তল্লাশি করা হয়েছে। আমি কোনো সন্ত্রাসী না। তাহলে কেন অভিযান চালানো হলো। এদিকে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদকে ফেসবুকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মীর অভির বিরুদ্ধে। নিজের আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি আনোয়ার আলীর বাড়িতে লোকসমাগমের আহ্বান জানান এবং বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দিনকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন। যদিও পরে পোস্টটি সংশোধন করে বিএনপি নেতার নাম মুছে ফেলা হয়। দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবগঠিত কমিটির সদস্যরা আনোয়ার আলী ও তার ছেলে তনুর অনুগত। শুক্রবার জেলা যুবলীগের সভাপতি মীর সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ঢাকা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়। এর আগে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকেও আনোয়ার আলীর পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন হানিফের সঙ্গে আনোয়ার আলীর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে ছিল। তনুর দলীয় কোনো পদ না থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে হানিফের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তনু ঢাকা থেকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হন। পরে জামিনে মুক্তি মেলে। তবে ৫ আগস্টের পর দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন হানিফ। আনোয়ার আলী ও তার ছেলের অনুগতদের দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি গঠন হয়েছে। ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আনোয়ার আলীর দুই ভাতিজাকে। এছাড়া আনোয়ার আলী ও জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা যুলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের অনুগতদের নিয়ে যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই বাড়িতে অবস্থানের খবরে অভিযান চালানো হয়। তবে ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি।