ভোট দেন না যে গ্রামের নারীরা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
দেশে এমন একটি এলাকা, যেখানে নারীরা নির্বাচনে ভোট দেন না। আর এই প্রচলন আজ থেকে নয়, চলছে স্বাধীনতার আগ থেকেই। সেখানে এখনো পুরুষদের ভোটেই নির্বাচিত হন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য। নারীদের এমন কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে তাদের যুক্তি বা বিশ্বাস হলো ভোট দিলে তাদের ‘পর্দা’ নষ্ট হয়ে যাবে। অথচ তারা গৃহস্থালির পাশাপাশি শিক্ষা-দীক্ষাসহ সমাজের বিভিন্ন কাজ-কর্মে, অফিস আদালতে, এমনকি ভোটের দিনে পর্যন্ত দিব্বি হাট-বাজারে যাতায়াত করেন, তবুও ভোট দেন না।
এমন দৃশ্যপট বাস্তবে রূপ নিয়েছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে। অবস্থার পরিবর্তনে বিগত সময়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে নির্বাচনকেন্দ্রিক দায়িত্বশীল, কেউই এই প্রচলন থেকে তাদের সড়াতে পারেনি।
জানা গেছে, প্রায় ৪ বর্গমাইল আয়তনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে ভোটারের সংখ্যা ২৪ হাজার ৪৫৪ জন। এর মধ্যে নারী প্রায় অর্ধেক।
স্থানীয়ভাবে কথিত আছে, স্বাধীনতার আগে এই এলাকায় কলেরা মহামারি আকারে দেখা দেয়। গ্রামের পর গ্রাম এই রোগ ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন স্থানীয়রা রোগমুক্তির জন্য হজরত মওদুদ হাসান (রহ.) জৈনপুরীর শরণাপন্ন হন। তিনি রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেন। একপর্যায়ে সময়ের সঙ্গে গ্রাম থেকে মহামারির প্রকোপ কমতে শুরু করে। গ্রামবাসী
আরোগ্য লাভ করতে থাকেন। সেই সময়ে পীর মওদুদ হাসান গ্রামের নারীরা যেন সব সময় পর্দা করে চলেন, পুরুষদের সেই নির্দেশনা দেন।
তৎকালীন পীর মওদুদ হাসানকে দেখা স্থানীয় অশীতিপর আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রামে কলেরার প্রাদুর্ভাব লাগলে গ্রামকে গ্রাম মানুষ মরা শুরু হয়। একই সঙ্গে কয়েকজনের জানাজা পড়তে হয়েছে। তখন হুজুরসহ সবাই দোয়া-দরুদ পড়তাম, সভা খতম, কোরআন তিলোয়াত করতাম। এই বালা থেকে মুক্তির জন্য হুজুর দোয়া করতেন।
তবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হুজুর নারীদের ভোট দিতে নিষেধ করেছেন এমন কথা আমি কখনো শুনিনি। তিনি পর্দায় চলতে বলেছেন, ভোট দিতে নিষেধ করেননি।’
এ বিষয়ে খানকা-ই-হাসনে মওদুদে জৈনপুরী পীরের বর্তমান খাদেম হাফেজ মোহাম্মদ বেনিয়ামিন বলেন, ‘নারীদের ভোট দেওয়া উচিত, ভোট একটি আমানত। হুজুর ভোট দিতে নিষেধ করেছেন কি না সেটা আমরা জানি না। তবে এখানকার নারীরা দেয় না।’
এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক গতকাল সোমবার এই এলাকার নারী ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। মতবিনিময় সভায় নারীরা এবার ভোট দেবেন বলে জেলা প্রশাসককে আস্বস্ত করেছেন। জেলা প্রশাসকও নারী ভোটারদের সব ধরনের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন।
এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হাসান, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনসার্চ হেলাল উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
