মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ধানের শীষে ভোট দিন: তারেক রহমান


মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ধানের শীষে ভোট দিন: তারেক রহমান
মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতে দেশের মানুষ যতবার ধানের শীষকে নির্বাচিত করেছেন, ততবারই উন্নয়ন হয়েছে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তারেক রহমানের এটা প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ। গত বৃহস্পতিবার তিনি হযরত শাহ জালাল (রহ) ও হযরত শাহ পরান (রহ) মাজার জিয়ারতের পর সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে দলের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। ভাষানটেকে সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, সারা দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, ভালো পরিবর্তন চায়। এলাকার মানুষের কী কী সমস্যা তা জানার জন্য সমাবেশ স্থল থেকে নিজে মাইক নিয়ে ভাষানটেকের বাসিন্দা, তরুণ শিক্ষার্থী, প্রান্তিক শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের একজন করে ব্যক্তি ও নারীকে খুঁজে খুঁজে ডেকে আনেন তিনি। তাদের কাছে এলাকার সমস্যাগুলো জানতে চান। তারা বলেছেন, ভাষানটেকে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন, নারীদের জন্য কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ড চান। জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমিও এই এলাকায় বড় হয়েছি। যদিও অনেকদিন বাইরে থাকতে হয়েছে আমাকে, তারপরও আমি আপনাদেরই একজন। স্বাভাবিকভাবেই আজকে যখন আমি এই এলাকার প্রার্থী হয়েছি। আমি আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়া আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠনে সক্ষম হলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছেন, বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনসহ অন্য যে সমস্যাগুলো বলে গেছেন ইনশাআল্লাহ আমরা সেই সমস্যার সমাধান করব। আমরা খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই মঞ্চে থাকা বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, সবাই চেনেন তাকে। ছেলে হোক মেয়ে হোক তারা যাতে প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে, ক্রীড়া দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে সেই প্রতিভাগুলোকে আমরা বের করে নিয়ে আসতে চাই। খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই। দেশ পুনর্গঠনে গণতন্ত্র চাই তারেক রহমান বলেন, দেশে আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর বিগত ১৫–১৬ বছরে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধ্বংস হওয়ার ফলে আজকের দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের এগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি পুনর্নির্মাণ করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা যদি জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারেন তাহলেই এলাকার সমস্যা, আপনার সমস্যা তুলে ধরতে পারবেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর যেসব ভুয়া নির্বাচনে তথাকথিত এমপি হয়েছিলেন তাদের কাছে কেউ যেতে পারতো না। এলাকার সমস্যা নিয়ে যেতে পারতেন না। সেজন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান যদি করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে, আপনারা যদি প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয় একই সাথে পৌরসভা হোক, উপজেলা হোক, ইউনিয়ন পরিষদ হোক সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। অর্থাৎ জবাবদিহিতা থাকতে হবে। যারা জনপ্রতিনিধি হবে তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কি? আজকে যেভাবে আমি আপনাদের কাছে ডেকেছি, আপনাদের কাছে থেকে আমি সমস্যা যেভাবে জানতে চেয়েছি। জনসমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি জরুরি তারেক রহমান বলেন, এলাকার মূল সমস্যার পাশাপাশি দেশের মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা- এগুলোকে যদি পর্যায়ক্রমিক সমাধান করতে হয় তাহলে আগামী দিনে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক এবং সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। মানুষের নির্বাচিত সরকারি মানুষের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। একই সাথে আমি অনুরোধ করছি, যে পরিকল্পনাগুলো আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরলাম সেই পরিকল্পনাগুলোকে যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে সমগ্র বাংলাদেশে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে এবং আপনাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব পরিচিতজনদের বলুন। ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আবদুস সালাম ও প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের যৌথ সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন আলম, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমানসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।