সরকারি কর্মচারীদের ৯ম পে-স্কেলের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে একটি বড় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ এবং ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করার পাশাপাশি ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের জোরালো আওয়াজ উঠেছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসান।
বিভিন্ন জোটভুক্ত সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসা সত্ত্বেও সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
সম্প্রতি জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্যে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বর্তমান বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা বৃদ্ধি, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, রেশন ব্যবস্থা চালুসহ একাধিক কাঠামোগত দাবির কথা তুলে ধরেন।
কয়েকজন নেতা দাবি করেন যে, ১:৪ অনুপাতে ১২টি গ্রেডভিত্তিক কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ৩৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৪০,০০০ টাকা নির্ধারণ করে গেজেট জারি করা উচিত।
সমাবেশে জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সংগঠন, সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদসহ জোটভুক্ত ৩৫টিরও বেশি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশ শেষে ঘোষিত কর্মসূচিতে জানানো হয়, আগামী ১ থেকে ৩রা ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরের সামনে ২ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ করার কঠোর আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নবম জাতীয় বেতন কমিশন সম্প্রতি প্রতিবেদন পেশ করেছে, যাতে সর্বনিম্ন বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলো এই সুপারিশকে অপর্যাপ্ত মনে করে আরও বৈষম্যমুক্ত ও বাজারমুখী পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
