২০২৫ সালে সড়কে মৃত্যু ১০০৮ শিশুর


২০২৫ সালে সড়কে মৃত্যু ১০০৮ শিশুর
বিদায়ী ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বয়স এক মাস থেকে ১৭ বছর। এর মধ্যে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক ও হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছেন ৫৩৭ জন শিশু। আর পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৭১ জন শিশু। গতকাল মঙ্গলবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, পথচারী হিসেবে বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় ১৮৭ জন; প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের চাপা-ধাক্কায় ৩২ জন; থ্রি-হুইলার ও নছিমন-ভটভটির চাপা-ধাক্কায় ১৯৮ জন এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৫৪ জন শিশু নিহত হয়েছেন। শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে ২৮১ জন, আঞ্চলিক সড়কে ৩৬৪ জন, গ্রামীণ সড়কে ২৯১ জন এবং শহরের সড়কে ৭২ শিশু নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দুপুরে ২৮৩ জন, সকালে ২৬৯ জন ও বিকেলে ২৬১ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ বলতে গিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন শিশুবান্ধব না হওয়া; সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের মধ্যে সচেতনতার অভাব; পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেওয়া; অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক কর্তৃক যানবাহন চালানো; দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট এবং আহত শিশুদের চিকিৎসায় পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা। দুর্ঘটনা কমাতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ছয়টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ করা; নিরাপদে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে পরিবারে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সচেতন করা; অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক দিয়ে যানবাহন চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা; জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সুযোগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন করা এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।