নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত হবে এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই : জামায়াত আমির


নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত হবে এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই : জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মায়েদের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত আমির শহীদ ওসমান হাদির ইনকিলাব মঞ্চ ও জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, যারা বিগত আন্দোলনে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বোন ও পিতাকে হারিয়েছেন আমি তাদের হয়ে আপনার সামনে দাঁড়িয়েছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। কী অপরাধ ছিল তাদের। তাদের তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সন্তান হারানোদের কাছে গিয়েছি। তাদের আহাজারি সহ্য করতে পারিনি। অনেকে আছেন যারা তাদের সন্তানদের এখনো কোনো খোঁজ পাননি। তিনি বলেন, পকেট থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়েছে, চাঁদাবাজি করা হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদ বাংলায় আবার ফিরে আসুক আপনারা কি তা চান। আমাদের সন্তানরা যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছেন। তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই জনপদে সব থেকে বেশি খুন করা হয়েছে। সোহানের মা বলেছিলেন— তোমরা আমার সন্তানকে মেরেছো ঠিক আছে কিন্তু তার চোখ দুটি কেন তুলে নিলে, কী অপরাধ করেছিল আমার ছোট্ট সন্তান? ঝিনাইদহ জেলা জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন। এ ছাড়া সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের জামায়াত জোট প্রার্থী মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকর। বিশাল এ সমাবেশে বক্তৃতা করেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী আবু তালিব ও ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমানসহ জেলা জামায়াতের নেতারা। জামায়াতের আমিরের জনসভা কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে থাকে। বিকেল গড়ানোর আগেই কানায় কানায় ভরে ওঠে জনসভার মাঠ। পুরো ঝিনাইদহ শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে সড়ক পথে ঝিনাইদহে পৌঁছান জামায়াতের আমির। এরপর সরাসরি সমাবেশস্থলে গিয়ে মঞ্চে ওঠেন। ৬টা ৫৫ মিনিটে বক্তৃতা শুরু করেন জামায়াত আমির। মাত্র ২৩ মিনিটের বক্তব্যে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। মেডিকেল কলেজ করেই আমরা বসে থাকব না। উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। সঠিক শিক্ষা ছাড়া ভালো জাতি গড়া সম্ভব না। আমরা ঘোষণা করেছি বেকার সমস্যার সমাধান করতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। তিনি বলেন, প্রিয় ঝিনাইদহবাসী পাশের জেলা যশোরে যান সেখানে মেডিকেল কলেজ আছে কিন্তু রাস্তার বেহাল দশা। সরকারের কি জনশক্তি নাই। তাহলে অবকাঠামো কেন উন্নয়ন হচ্ছে না। রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে লুটকারীদের পেটে হাত দিয়ে সব সম্পদ বের করে আনা হবে। বেকারদেরর ভাতা দিয়ে আমরা অপমানিত করতে চাই না। বেকারদের যোগ্যতার স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখাতে চাই। দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের লজ্জা করে না। দুর্নীতি ছেড়ে দাও, নইলে রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষা কর। চাঁদাবাজির থেকে ভিক্ষা করা সম্মানের। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, এ জাতির সন্তানরা যুগে যুগে রক্ত দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আমরা তাদের সম্মান দিতে চাই। ২৪-এ বিপ্লব করেছে, ২৬-এ আরেকটি বিপ্লব করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লব করতে হবে। দেশের উন্নয়নে এ বিপ্লব করতে হবে। বক্তৃতা শেষে তিনি জেলার চার সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা উপজেলা) এএসএম মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা) অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন) মাওলানা আবু তালিবকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।