ক্রেতা দেখলেই মরার ভান ভেড়ার, দামে রেকর্ড


ক্রেতা দেখলেই মরার ভান ভেড়ার, দামে রেকর্ড
ক্রেতা কাছে এলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিথর হয়ে যাওয়ার অভিনব কৌশলের কারণে চীনের এ কটি মেষশাবক এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়ে গেছে। মাত্র ১০ দিনের এই মেষশাবককে নেটিজেনরা নতুন নাম দিয়েছেন। এটি এখন ‘ড্রামা কুইন ল্যাম্ব’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এজন্য এটির রেকর্ড দামেও বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম চীনের নিংশিয়া অঞ্চলের শিজুইশান শহরের পিংলুও কাউন্টির বাওফেং টাউনের ঝংফাং গ্রামের বাসিন্দা কৃষক জিন শিয়াওলিন জানান, তিনি চারটি মেষশাবক স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে তিনটি ৪২০ ইউয়ানে বিক্রি হলেও চতুর্থটি সবাইকে হতবাক করে দেয়। কেউ কাছে এলেই বা স্পর্শ করতে চাইলে মেষশাবকটি হঠাৎ মাটিতে পড়ে নিথর হয়ে যায়। দেখে মনে হয় যেন মরে গেছে। প্রথমে ক্রেতারা একে অসুস্থ ভেবে কিনতে রাজি হননি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, মানুষ চলে গেলেই মেষশাবকটি চুপচাপ উঠে দাঁড়িয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা শুরু করে। এমনকি এটি শিশুদের প্রতিই কেবল বন্ধুসুলভ আচরণ করে। জিন শিয়াওলিন স্থানীয় গণমাধ্যম নিংশিয়া অবজারভেশনকে বলেন, শেষ পর্যন্ত আমি এটিকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসি। এটা এতটাই মানুষের মতো আচরণ করে! কাউকে আসতে দেখলেই শুয়ে পড়ে মরে যাওয়ার ভান করে। প্রতিদিন মানুষ শুধু ওকে দেখতেই আসে, কেউ কেউ ফোন করে খোঁজও নেয়। তিনি বলেন, এত আদুরে একটা প্রাণী আমি কীভাবে একে বিক্রি করতে পারি? জিনের এক আত্মীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেষশাবকটির ভিডিও পোস্ট করার পরই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নাটকীয়ভাবে ‘মরে যাওয়ার অভিনয়’ করছে মেষশাবকটি। একাধিক প্ল্যাটফর্মে এসব ভিডিও ইতোমধ্যে এক কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে এবং একটি অ্যাকাউন্টেই ৩২ হাজারের বেশি ফলোয়ার জুটেছে। ভাইরাল হওয়ার পর কেউ কেউ মেষশাবকটি কিনতে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত প্রস্তাব দিলেও জিন তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ দাম যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ লাখ টাকার সমান। জিন জানান, তিনি মেষশাবকটি বিক্রি করতে চান না। বরং এর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বিশেষ পণ্য প্রচারের পরিকল্পনা করছেন। এদিকে আশপাশের গ্রাম থেকে অনেক মানুষ জিনের বাড়িতে ভিড় করছেন ‘ড্রামা কুইন’ মেষশাবকটি একনজর দেখার জন্য। অনলাইনে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ তাকে দেখতে আসার অনুমতি চাইছেন।