ইসলামের দৃষ্টিতে হজ ও ওমরা।


ইসলামের দৃষ্টিতে হজ ও ওমরা।

হজ আরবি শব্দ, যার অর্থ সংকল্প করা। হজ হলো নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট কার্যাবলির মাধ্যমে বায়তুল্লাহ শরিফ জেয়ারত করা অথবা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে বায়তুল্লাহ যাওয়ার সংকল্প করা। হজ ইসলামি শরিয়তের অন্যতম স্তম্ভ ও রোকন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, প্রত্যেক আর্থিক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবনে একবার বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।

যাদের ওপর হজ ফরজ

১. মুসলমান হওয়া।

২. আকল থাকা বা বিবেকবান হওয়া অর্থাৎ পাগল না হওয়া।

৩. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।

৪. স্বাধীন হওয়া অর্থাৎ কারও গোলাম না হওয়া।

৫. দৈহিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া।

তবে নারীদের ক্ষেত্রে সঙ্গে মাহরাম থাকা।

হজ ফরজ হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে- শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া। সামর্থ্যের মধ্যে আর্থিক সামর্থ্য থাকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর যে ব্যক্তির উপর ঋণ রয়েছে, তার প্রথম কাজ হলো ঋণ পরিশোধ করা। কেননা ঋণদাতারা যদি ঋণ আদায় করার আগে হজ আদায়ে বাধা দেয় তাহলে সে ব্যক্তি হজ আদায় করবে না। কারণ সে হজের জন্য আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নয়।

হজ আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। এ ইবাদতকারীর জন্য আগে ঋণ পরিশোধ করা জরুরি। সামর্থ্য থাকলে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা নিষেধ। এটিকে জুলুমের সঙ্গে তুলনা করেছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ইসলামিক স্কলারদের মতে, ঋণের সঙ্গে হজ হওয়া-না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে যে ব্যক্তি ঋণগ্রন্ত তার উচিত, হজ না করা। কারণ সে যে অর্থ দিয়ে হজ করবে সে অর্থ দিয়ে ঋণ আদায় করা উত্তম। যদি ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য সম্পদ বিক্রির প্রয়োজন হয়, তবে হজের চেয়ে ঋণ পরিশোধ করা ফরজ।

পক্ষান্তরে ওমরাহ একটি সুন্নাত এবাদত। মুসলিমদের জন্য সারা জীবনে হজ যেমন একবার করা ফরজ তেমন ওমরাহ জীবনে একবার করা সুন্নাত। তবে কেউ যদি সামর্থ্যবান হন তাহলে একাধিকবার করতে কোন বাধা নেই। কিন্তু কারো ওপর যদি হজ ফরজ হয় এবং আদায়ের সুযোগ থাকে তাহলে হজ না করে বারবার ওমরাহ করার কোন যুক্তি নেই। আবার অনেকে মনে করে ওমরা হজ করলেই হজ হয়ে যাবে অথবা ওমরা হজ করেই বলে হজ হয়ে গেছে। ওমরাহ কখনো হজের বিকল্প নয়; ওমরাহ পালন করলে হজ ফরজ হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। ঋণগ্রস্ত অবস্থায় নফল ইবাদত যেমন ওমরাহ না করাই শ্রেয়। পাওনাদার যদি ঋণ পরিশোধে সময় দেয় এবং হজে বা ওমরা হজে যেতে বাধা না দেয়, তবে হজ বা ওমরা করা যাবে। আর যদি পাওনাদারের অনুমতি না দেয় , তাহলে হজ বা ওমরা হজে না যাওয়াই শ্রেয়।

একই সাথে, বাবা-মার অধিকার আদায়ে অবহেলা করে হজে বা ওমরা হজে যাওয়া ইসলামে পছন্দ করে না। আগে বাবা-মার দায়িত্ব নিশ্চিত করুন, তারপর সামর্থ্য থাকলে হজে বা ওমরা হজে যান। তাই, বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে বা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে হজ বা ওমরা করলে তা কবুল হওয়া নিয়ে সন্দেহ থাকে। আগে তাদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। বাবা-মা জীবিত হলে তাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় খরচ দেওয়া ইসলামের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব, যা হজ ও ওমরা হজের চেয়েও জরুরি।

আমার সোনা বউ, আমার শ্বশুর ও আমি ওমরা হজ পালন করে আসলাম। আল্লাহ তুমি আমাদের ওমরা হজ কে কবুল করুন ।ইসলামের আইন জেনে শুনে বুঝে হজ ও ওমরা করার অনুরোধ সবাইকে। আল্লাহ সব মুসলমানকে তুমি হজ ও ওমরা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
আলহামদুলিল্লাহ
ড .আব্দুস সাত্তার
ওয়াশিংটন ডি সি
০২/০৭/২৬