অবশেষে বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিচ্ছেন মোহন রায়হান
অনলাইন নিউজ ডেক্স
দীর্ঘ নাটকীয়তা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন কবি ও প্রাবন্ধিক মোহন রায়হান।
রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে কবি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তবে পুরস্কারের অর্থ তিনি নিজে গ্রহণ না করে কোনো দুস্থ সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে দান করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ সময় পুরস্কার স্থগিত করা থেকে শুরু করে পুনরায় প্রদানের ঘোষণা পর্যন্ত ঘটে যাওয়া নানা অনভিপ্রেত ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মোহন রায়হান অভিযোগ করেন, পুরস্কারের তালিকায় তার নাম ঘোষণার পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার শুরু করে। এমনকি ৪১ বছর আগে লেখা একটি কবিতার অজুহাত দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে তার পুরস্কার স্থগিত করা হয়েছিল।
কবি বলেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং মুক্তচিন্তার ওপর একটি বড় আঘাত ছিল।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি এই পুরস্কারের জন্য কোনো তদবির করেননি, বাংলা একাডেমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই তাকে মনোনীত করেছিল।
পুরস্কার বর্জন করবেন কিনা— এমন দোলাচলের মধ্যে ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
কবি জানান, অধিকাংশের মত ছিল— ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করা মানে অপশক্তিকে জয়ী হতে দেওয়া।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও কলমের স্বাধীনতার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আমি আশ্বস্ত হয়েছি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে বিভাজনের চেয়ে ঐক্যকেই আমি বেছে নিয়েছি।
কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে অতীতে সৃষ্ট জটিলতার কথা স্মরণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে কবি শামসুর রাহমানকে সম্মান জানিয়েছিলেন, সেই উদারতার ঐতিহ্য বর্তমান সময়েও বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অপমানের চেয়ে মর্যাদা বেছে নেওয়াই আমাদের কাজ।
এ সময় পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন তিনি। তা হলো-
১. পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কার করতে হবে।
২. দলনিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশেষজ্ঞনির্ভর বাছাই প্রক্রিয়া প্রবর্তন করতে হবে।
৩. পুরস্কারটি যেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করা যায়, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ২ মার্চ কবির হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
