চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ৬ জাহাজ, পথে দুটি


চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ৬ জাহাজ, পথে দুটি
তেল-গ্যাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে একের পর এক জাহাজ আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে। কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে এরই মধ্যে নোঙর ফেলেছে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ। যুদ্ধ শুরুর আগমুহূর্তে ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজিবাহী ‘জিওয়াইএমএম’ নামে আরেকটি জাহাজ নোঙর করেছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। আজ রোববার ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে নোঙর করতে পারে ‘সেভান’ নামে আরেকটি জাহাজ। সোমবার ‘লুসাইল’ এবং বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি জাহাজের বন্দরে ভেড়ার কথা। নোঙরের অপেক্ষায় থাকা এই তিন জাহাজে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টনের বেশি এলএনজি রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি পার করায় পাইপলাইনে থাকা এই জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সরবরাহ সংকট এড়াতে সরকার খোলাবাজার থেকেও বেশি দামে দুই জাহাজ এলএনজি কিনেছে। সেই জাহাজও শিগগির দেশে আসবে। তাই জ্বালানি তেল ও গ্যাস নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত মজুত করার প্রয়োজন নেই। তবে সচেতন ও সাশ্রয়ী হতে হবে। কারণ যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে, আমাদের জানা নেই। এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের সিনিয়র ডিজিএম মো. নুরুল আলম বাহার বলেন, চলতি মাসে এলএনজি নিয়ে মোট ৯টি জাহাজ আসার কথা ছিল। এর মধ্যে ২টি এসে গেছে। ৪টি পথে আছে। তবে ৩টি জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালির ভেতরে থাকায় সেগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির বাইরে আফ্রিকার এঙ্গোলা থেকে ৫৮ হাজার টন এলএনজি নিয়ে একটি জাহাজ ২০ মার্চ আসবে। এদিকে ব্লুমবার্গের সংগৃহীত জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, এলএনজিবাহী একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। এটি ৬ মার্চ কাতারের এলএনজি রপ্তানি কমপ্লেক্স থেকে যাত্রা শুরু করেছে। ১৪ মার্চ জাহাজটির বাংলাদেশে নোঙর করার কথা। হরমুজ প্রণালি সময়মতো অতিক্রম করতে না পারলে এই চালানটি নির্ধারিত সময়ে আসা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই রকম সংশয় রয়েছে ‘লিব্রেথা’ নামে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ নিয়ে। এটি ৬০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ১৪ মার্চ বন্দরে আসার কথা ছিল। পেট্রোবাংলা বলছে, এ বছর ১১৫টি কার্গো (জাহাজ) এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ৪০টি এবং ওমান থেকে ১৬টি কার্গো আসার কথা।