বাংলাদেশে ইলেকশন বিষয়ে শেখ হাসিনার অভিমত


বাংলাদেশে ইলেকশন বিষয়ে শেখ হাসিনার অভিমত

স্থান : নতুন দিল্লির একটি অজ্ঞাত স্থানে Raw (র) এবং ইনডিয়ান সরকার কর্তৃক সুরক্ষিত
কাল : ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময়)
ইন্টারভিউ দাত্রী : বাংলাদেশের পলাতক সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা
ইন্টারভিউ গ্রহণকারী : শফিক রেহমান

(এই ইন্টারভিউ সম্পূর্ণ কাল্পনিক- যাযাদি)

শ. রে : নমস্তে হাসিনাজি।

শে. হা : আপনি স্লামওয়ালেকুম বললেন না কেন?

শ. রে :ইংরেজিতে কথা আছে হোয়েন ইন রোম, বি এ রোমান। অর্থাৎ রোমে গেলে রোমান রীতিই অনুসরণ করা নিরাপদ।

শে. হা : বুঝলাম। আমিও মোদিজিকে নমস্তে বলেই আলোচনা শুরু করি। আপনাকে চিনতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। আপনি অনেক বদলে গেছেন। মাথায় আবার একটা হ্যাট পরেছেন। এটা কি ধর্ম নিরপেক্ষতা দেখানোর জন্য?

শ. রে :আমি আমার নিজের ইচ্ছা মতোই চলি। মাথায় টাক যে পড়েছে, সেটা ঢাকবার জন্য নয়। বয়স হয়েছে, হ্যাট পরি, গরম থাকার জন্য। এখন তো শীতের সময়।

শে. হা :তাই বুঝি?

শ. রে : হ্যা, তাই। আপনি মাথায় হিজাব পরুন। গরম থাকবেন।

শে. হা : লোক দেখানোর জন্য আমি ফুল হাতা ব্লাউজ আর মাথায় ঘোমটা পরে বহু বছর আগে একটা ইলেকশন ক্যাম্পেইন করেছিলাম। আপনার মনে আছে?

শ. রে : হ্যা।

শে. হা : এখন চোখের পাওয়ারটা কমে গেছে। সব কিছু একটু ঝাপসা দেখি। আপনাকেও তাই দেখছি।

শ. রে : আমারও চোখের পাওয়ার খুব কমে গেছে। আপনি যখন আমাকে ২০১৬ সালে কাশিমপুরে নির্জন কারাবাসে পাঠিয়েছিলেন, তখন আমার স্ট্রোক হয়েছিল। ফলে আমি বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর বাম কানের শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণ হারিয়েছি। শুধু ডান দিকে কিছু দেখতে ও কিছু শুনতে পাই। বলতে পারেন আমি আপনাকে ঝাপসাই দেখছি।

শে. হা : আপনাকে ওই জেলে বৃৃগেডিয়ার রহিম, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর কাশেম আলি, নিজামী, কামরুজ্জামান, কাদের মোল্লার মতো মেরে ফেললেই এসব অসুবিধায় আপনাকে পড়তে হতো না।

শ. রে :অপার করুনা আপনার। ধন্যবাদ।

শে. হা :বলুন, আপনি এখানে এলেন কি করে? কি করে জানলেন, কোথায় আছি আমি।

শ. রে : ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনের এয়ার মাইল দূরত্ব ৮০২৮ মাইল। এত দূরে ঢাকায় থেকেও আমি আপনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার চেষ্টা করেছিলাম। এই অভিযোগে আপনি আমার বিচার করেছিলেন। জয় এসেছিলেন আমেরিকা থেকে সাক্ষ্য দিতে। ওই বিচারের বিচারক জয়কে অভ্যর্থনা জানাতে কয়েক তলা সিড়ি ভেঙে নিচে গিয়েছিলেন। এরপর জয়ের পিছু পিছু আদালতে গিয়েছিলেন। জয় সেখানে কি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, আমি জানি না। কারণ, আমার উকিলকে বিচারে উপস্থিত হতে দেয়া হয়নি। সেই মিথ্যা অভিযোগ ও সাজানো বিচারে আমাকে সাত বছরের জেলদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

শে. হা : আপনার যুক্তি জানলাম। কিন্তু আজ আপনি এখানে এসেছেন কেন? শুধু নিজের কথা বলতে?

শ. রে : মোটেই না। আমি এসেছি মোদিজি সরকার এবং র-এর অনুমতি ও সহযোগিতা নিয়ে। আমি এসেছি জানতে, এই যে গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে একটা ইলেকশন হয়ে গেল, সেই বিষয়ে আপনার মতামত।

শে. হা : (অবাক হওয়ার স্বরে) ইলেকশন? বাংলাদেশে ড. ইউনূসের সাজানো-পাতানো ইলেকশন? সেটা তো সম্পূর্ণ ভুয়া ইলেকশন। এ বিষয়ে আমি আগে ইনডিয়ান মিডিয়াতে বলেছি। এই ইলেকশন ভুয়া। এটা বাতিল করতে হবে। নতুন ইলেকশন করতে হবে। দ্রুত, পারলে এই মাসেই। সবাইকে বোঝাতে হবে, এবার ইলেকশনে সূক্ষ্ম কারচুপি না, স্থূল কারচুপি হয়েছে।

শ. রে : কোন কারণে এই ইলেকশনকে আপনি ভুয়া বলছেন?

শে. হা :ইউনূস একটা ধড়িবাজ সুদখোর লোক। আমেরিকা, বৃটেন আর ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে চক্রান্ত করে এই বানোয়াট ইলেকশন করেছে। ওই বেটা আরেকটা নোবেল প্রাইজ জেতার জন্য এসব করেছে। আমি ডজন খানেক ডক্টরেট পেয়েছি, বিদেশ থেকে। আমি জানি, কিভাবে বিদেশ থেকে এসব ডিগৃ, প্রাইজ পেতে হয়।

শ. রে : এটা যদি আপনি জানতেনই, তাহলে আপনি যখন ঢাকায় ক্ষমতাসীন প্রধান মন্ত্রী ছিলেন, তখন সতর্ক হলেন না কেন?

শে. হা :আমি চেয়েছিলাম, সাবধান হতে। ওই যে এক বেটি, যার জানাজা হলো, তাকে তো পদ্মা বৃজ উদ্বোধনের দিনে সেখানে এনে টুস করে নদীতে ফেলে দিতে বলেছিলাম। আর ওই ইউনূস বেটাকে দুইবার পদ্মায় চুবাতে বলেছিলাম। আমি লুকোছাপা করি না। সবার সামনেই এ কথা বলেছিলাম। কিন্তু আমারই নিকট আত্মীয় সেনা বাহিনীর প্রধান আমার নির্দেশ বা ইচ্ছা যাই বলুন না কেন, সেটা বোঝে নি। ওই যে সবাই বলে, সৈন্যদের বুদ্ধি থাকে হাটুতে। কথাটা ঠিক। সে বোঝেনি, আমি কি চাই, তার কি করা উচিত। এতসব ঝামেলাই হতো না, ওই দুটো বদমাইশকে সেদিন পদ্মায় ডুবিয়ে মেরে ফেললে।

শ. রে :আপনার ক্ষোভের কারণ বুঝলাম। কিন্তু এত কিছুর পরও তো খুব শান্তিপূর্ণ ভাবে, উৎসব মুখর পরিবেশে একটা ইলেকশন হয়ে গেল। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হলো। জামায়াত জিতবেই এমন প্রচারণা সত্ত্বেও হারল। এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?

শে. হা :১৯৯৬-এর ইলেকশনে ওরা তো আমার দলের সঙ্গেই ছিল? তারপর ওরা ২০০১-এর ইলেকশনে চলে গেল বিএনপির সঙ্গে। ওদের ধর্মীয় চরিত্র হয়তো আছে, কিন্তু ওদের রাজনৈতিক চরিত্র নেই। আর বিএনপি জিতেছে? সম্পূর্ণ বাজে কথা। স্রেফ ভুয়া।

শ. রে : তাহলে কে জিতেছে এই ইলেকশনে?

শে. হা :এই ইলেকশনে আওয়ামী লীগই জয়ী হয়েছে। আমিই জিতেছি। আমি বাংলাদেশের বৈধ প্রধান মন্ত্রী ছিলাম এবং এখনো তাই আছি। বাংলাদেশের মানুষ আমার পক্ষেই রায় দিয়েছে।

শ. রে :কিভাবে সেটা বুঝলেন?

শে. হা :ওই কুচক্রী ইলেকশন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪০ পার্সেন্ট ভোটার ভোট কেন্দ্রে যায়নি। আমাদের স্লোগান ছিল, No Boat, No Vote- নৌকা প্রতীক না থাকলে ভোট দেবেন না। তাহলে ধরে নিতে হবে ওই ৪০ পার্সেন্ট ভোটার যারা ভোট দেয়নি তারা আমার নির্দেশে মেনেছে। অর্থাৎ তারা সব আওয়ামী লীগ সমর্থক। তার মানে, বাকি যে ৬০ পার্সেন্ট ভোটার ভোট দিয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ১১ পার্সেন্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দিতে পারলে আমাদের দল পেত ৪০ + ১১ = ৫১ পার্সেন্ট ভোট। আমরাই বিজয়ী হতাম এই ইলেকশনে। এখন মিডিয়া যা বলুক না কেন অবাধ ও সুষ্ঠু ভাবে ইলেকশন হয়েছে, সেসব মিথ্যা। আমি ১৫ বছর একটা দেশ চালিয়েছিÑ মিডিয়াকে হাতে রেখেছি। আমি জানি, ওরা কি বলতে পারে, কি লিখতে পারে।

শ. রে :তাহলে আপনি বলছেন, মোটা দাগে আওয়ামী লীগ অন্তত ৫১ পার্সেন্ট ভোট পেত যদি আপনার মতে অবাধ ও সুষ্ঠু ইলেকশন হতো। কিন্তু সেটা কি সম্ভব হতো জুলাই বিপ্লবের পরে?

শে. হা : কিসের বিপ্লব? হ্যা সম্ভব হতো। এখন আপনারা দিবালোকে ইলেকশন করে দিবা স্বপ্ন দেখছেন। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, আমি ২০১৮ সালে নৈশ ভোটের ব্যবস্থা করেছিলাম। আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, বাংলাদেশে দিনের বেলায় ভোট দেয়া বর্জন করতে হবে চিরকালের জন্য। আবার নৈশ ভোট করতে হবে?

শ. রে : কারণ? আপনার দল জেতা ছাড়াও নৈশ ভোটে দেশের কি লাভ হবে?

শে. হা :মূলত: তিনটি কারণে দেশ লাভবান হবে। (এই সময়ে শেখ হাসিনা ঘোমটা পরে নিলেন) প্রথম কারণ নৈশ ভোট ইসলাম বান্ধব ব্যবস্থা রূপে গৃহীত হবে। দিবা ভোটে নামাজের সময়গুলো ব্যাহত হবে। নৈশ ভোটে সেটা হবে না। দ্বিতীয় কারণ রাতের বেলায় এমনিতেই পরিবেশ শান্ত থাকে। আর তৃতীয়ত তখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক সহজ হয়। সুষ্ঠু ভোটের জন্য লাখ লাখ পাহারাদার নিযুক্ত করতে হবে না। সরকারের অনেক সাশ্রয় হবে। আপনি নিউ ইয়র্কে নিশ্চয়ই দেখেছেন, ম্যানহাটানের প্রায় সব অফিসে সারা রাত লাইট জ্বলে। কারণ, তখন চায়না আর জাপানে থাকে দিন। আমেরিকা সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক কারণে রাত জেগে ব্যবসা বাণিজ্য করে। রাজনীতিও তেমনি। আমাদের ভোটারদের রাত জাগার অভ্যাস করতে হবে।

শ. রে : আপনার দল আবার ক্ষমতায় ফিরে এলো সেই আশাই হয়তো মানুষ করবে।

শে. হা : হ্যা তাই, জয় বঙ্গবন্ধু।

শ. রে : গুড বাই, ম্যাডাম হাসিনা।

শে. হা : আমাকে ম্যাডাম বলবেন না। স্যার বলবেন। মনে থাকবে তো?

শ. রে : ইয়েস স্যার হাসিনা।