৫২ বছর পর কঙ্গো, ৪০ বছর পর ইরাক; চূড়ান্ত বিশ্বকাপের ৪৮ দল
অনলাইন নিউজ ডেক্স
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত হয়ে গেল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ৪৮টি দল। মঙ্গলবার রাতে প্লে-অফের নাটকীয় লড়াই শেষে বিশ্বমঞ্চের শেষ টিকিটগুলো নিশ্চিত করেছে ছয়টি দেশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো ও ইরাক। ৫২ বছর পর কঙ্গো এবং দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ‘লায়ন্স অফ মেসোপটেমিয়া’রা। এছাড়া টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি।
ইতালির বিদায়ের বিষাদ ও বসনিয়ার উল্লাস
এবারের প্লে-অফে সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটিয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে রুখে দিয়ে তারা যেমন বিশ্বমঞ্চ নিশ্চিত করেছে, তেমনি আজ্জুরিদের উপহার দিয়েছে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার তিক্ত স্বাদ। ২০১৮ এবং ২০২২ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও দেখা যাবে না ইতালিকে, যা ফুটবল বিশ্বে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
ইউরোপের অন্য তিন দলের লড়াই
ইউরোপীয় অঞ্চলের অন্য ম্যাচগুলোতেও ছিল টানটান উত্তেজনা। কসোভোকে হারিয়ে ২০০২ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে ফিরছে তুরস্ক। অন্যদিকে, শক্তিশালী ডেনমার্ককে বিদায় করে নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করেছে চেক প্রজাতন্ত্র। পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নাম লিখিয়েছে সুইডেন। গত আসরে জায়গা না পেলেও এবার পোলিশদের স্বপ্ন ভেঙে দারুণভাবে ফিরেছে সুইডিশরা।
ইরাকের ঐতিহাসিক জয়
মেক্সিকোর মন্তেরেইতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ইরাক। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে ফিরছে তারা। আলী আল-হামাদির হেডে লিড নেওয়ার পর ৫৩ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন আয়মেন হুসেইন। কোচ গ্রাহাম আরনল্ডের অধীনে ইরাকি ফুটবলের এই পুনর্জন্ম এশিয়ান ফুটবলের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।
কঙ্গোর রেকর্ড প্রত্যাবর্তন
আফ্রিকা অঞ্চল থেকে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে কঙ্গো ডিআর। ৫২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এটি তাদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে তারা।
বিশ্বকাপের লাইনআপ সম্পন্ন
এই ৬ দলের মাধ্যমেই পূর্ণতা পেল ২০২৬ বিশ্বকাপের বিশাল ক্যানভাস। আগামী জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে ইরাক খেলবে গ্রুপ ‘আই’-তে, যেখানে তাদের মোকাবিলা করতে হবে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে। ইতালির অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের জৌলুস কিছুটা কমালেও, কঙ্গো ও ইরাকের মতো দলগুলোর দীর্ঘ সময় পর ফিরে আসা নতুন এক উন্মাদনার জন্ম দিচ্ছে।
