পবিত্র উপাসনালয়ের ভেতরে নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর সশস্ত্র হামলার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে খুলনায়। আজ রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এ হামলা হয়। হামলায় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ও স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম (৪৫) এবং অপর মুসল্লি আলম শেখ (৫৫) গুলিবিদ্ধ হন। লোকমান হাকিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফজরের জামাত চলাকালে মুসল্লিরা সেজদায় থাকা অবস্থায় ২-৩ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মসজিদে ঢুকে সরাসরি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আলম শেখও গুলিবিদ্ধ হন। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ব্যবসায়িক শত্রুতা নাকি চাঁদাবাজি?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে আহত লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। এ কারণে ঘটনার পেছনে ব্যাবসায়িক বিরোধ বা পূর্বশত্রুতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছি এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। লোকমান হাকিমের ব্যবসায়িক কোনো বিরোধ বা শত্রুতার জেরে এই হামলা হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারি ও জ্বালানি তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় লোকমান হাকিমের সঙ্গে বিভিন্ন মহলের বিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদাবাজির দাবি বা ব্যবসায়িক চাঁদা-সংক্রান্ত কোনো বিরোধ থেকে এমন হামলা হয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জনমনে আতঙ্ক
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় খুলনায় স্তব্ধতা নেমে এসেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, “দেশ কি আবার জঙ্গিবাদের দখলে যাচ্ছে?” তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এটিকে ধর্মীয় বা জঙ্গি হামলা বলে মনে করছে না, বরং ব্যক্তিগত/ব্যবসায়িক শত্রুতাকেই প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত করছে।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ অপরাধীদের সনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে।