কুষ্টিয়ার আলোচিত লালনকে ঘিরে মাদক, অস্ত্র ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ; অনুসন্ধানে নতুন তথ্য
মোঃ নবীন কুষ্টিয়া থেকে
দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান, বিভিন্ন নথিপত্র, আর্থিক লেনদেনের তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে কুষ্টিয়ার আলোচিত ব্যক্তি ‘লালন’কে ঘিরে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অতীতে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তার নাম উঠে এলেও প্রতিবারই তিনি বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এক সময় ফেরি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তবে অনুসন্ধানের স্বার্থে কয়েকজন ব্যক্তি ও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, এক সময় লালন তাদের কাছ থেকে মালামাল নিয়ে বিক্রি করতেন এবং পরে অর্থ পরিশোধ করতেন। আর্থিক সংকটের সময়ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি ও চাঁদা বাজির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
এদিকে গত ৪ জুন রাজশাহীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ‘দুলাল ওস্তাদ’ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোবাইল কল রেকর্ড বিশ্লেষণে কয়েকজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আর্থিক লেনদেনের কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী—
০১৩১৫৮১৩০৩০ নম্বরে মোট তিন লক্ষ নব্বই হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
০১৭১৯৩৯৯০৭৫ নম্বরে মোট আড়াই লক্ষ টাকা টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
০১৭১৪৬০৩২২৩ নম্বরের লেনদেন সংক্রান্ত অনুসন্ধান মিম ও মুসাসহ আরও অন্তত ১০ জনের নাম উঠে এসেছে, যাদের পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না বৃহত্তর স্বার্থে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই চলছে। ব্যক্তিদের নাম্বার ও পাওয়া গেছে
অনুসন্ধানী টিমের হাতে থাকা নথি, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তদন্ত আরও এগোলে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা উদঘাটিত হবে এবং জনমনে বিদ্যমান নানা প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
