কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা এক বড় ‘বারুদের স্তূপের’ সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মধ্যরাতের এক শ্বাসরুদ্ধকর ও সুনির্দিষ্ট অভিযানে মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর পুঁতে রাখা ১০টি শক্তিশালী তাজা গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড গুলি এবং মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় এক ভয়াবহ ও সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৪ জুন, রবিবার দুপুরে টেকনাফের জাদিমুড়া বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন লবণ মাঠে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশনের চৌকস কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোক্তাদীন ছিদ্দিকী।
মধ্যরাতের সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার (১৩ জুন) গভীর রাতে টেকনাফের জাদিমুড়া এলাকায় নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ দল। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মিয়ানমারের ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে ফেলে যাওয়া স্থানে তল্লাশি চালাতে গিয়েই বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য। মাটি খুঁড়ে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
মাটির নিচ থেকে যা যা উদ্ধার হলো
উদ্ধারকৃত গোলাবারুদগুলো সাধারণ কোনো অস্ত্র নয়, বরং সামরিক বাহিনীতে ব্যবহারোপযোগী মারাত্মক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র। জব্দকৃত তালিকার মধ্যে রয়েছে, ৩৬ এম এমকে-১ হ্যান্ড গ্রেনেড, ২টি (যা মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে থাকে)। ৪০ মি.মি এইচইডিপি গ্রেনেড, ৮টি। ৭.৬২ মিলিমিটার তাজা গুলি, ২৮ রাউন্ড।।মাদক, ২ কেজি গাঁজা।
টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোক্তাদীন ছিদ্দিকী বলেন, ”উদ্ধার হওয়া এই ধ্বংসাত্মক গোলাবারুদ যদি কোনো অসৎ বা সন্ত্রাসী চক্রের হাতে পড়ত, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের অপূরণীয় ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। কোস্ট গার্ডের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে এই বড় ধরনের নাশকতা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ ও কড়া নজরদারি
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্ধকারের সুবিধা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গ্রেনেড, গুলি ও মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমা এবং নাফ নদী দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান এবং যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রুখে দিতে কোস্ট গার্ডের এমন আপসহীন ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ব্রিফিংয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।