কুষ্টিয়ায় ১০ বছর ধরে মাদকের সাম্রাজ্য: বজলুর মোড়ে সোহাগের রমরমা বাণিজ্য


কুষ্টিয়ায় ১০ বছর ধরে মাদকের সাম্রাজ্য: বজলুর মোড়ে সোহাগের রমরমা বাণিজ্য
কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বজলুর মোড় এলাকাটি বর্তমানে এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মাদক কারবারি সোহাগের বিরুদ্ধে দীর্ঘ এক দশক ধরে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তার এই অপকর্মের কারণে ওই এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী সোহাগ বেশ কিছু বার পুলিশের হাতে ধরা পড়লে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসে জামিনে এসে আবার চলে তার মাদক বিক্রি। অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহাগ গত ১০ বছর ধরে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটিয়ে আসছে। বর্তমানে বজলুর মোড় এলাকাকে কেন্দ্র করে সে তার মাদকের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকের অভিযোগ, সোহাগের কাছে বর্তমানে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে নেশাজাতীয় ভয়াবহ ওষুধ ‘টাপেন্ডা’ (Tapentadol) এবং মরণনেশা হিরোইন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, দিন-রাত নির্বিশেষে সোহাগের আস্তানায় দূর-দূরান্ত থেকে মাদকসেবীদের আনাগোনা চলে। দিনের চেয়ে রাতের বেলা এর প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী যুবকরা এই মাদকের মরণফাঁদে পা দিচ্ছে। সোহাগের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না, কারণ সে প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ এক যুগ ধরে এলাকাটি মাদকের অভয়ারণ্য হয়ে থাকলেও সোহাগের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে ছোটখাটো অভিযান চললেও মূল হোতা সোহাগ সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। স্থানীয়দের দাবি, সোহাগের এই মাদক সাম্রাজ্য ভেঙে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মডেল থানার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বজলুর মোড় এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।