অবৈধভাবে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের আইন আনছে বিএনপি সরকার
অনলাইন নিউজ ডেক্স
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা বহাল রাখতে আইন আনছে বিএনপি সরকার, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আপত্তি জানিয়েছিল।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে অধিকাংশকে আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করেছে। সংবিধানের বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংসদকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
গত ১৩ই মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করা হয়। পরে ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যার ১১ জন বিএনপি এবং তিনজন জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনীত।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৃহস্পতিবার সংসদে সুপারিশ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ সরাসরি আইনে রূপান্তরের জন্য বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। আরও ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে উপস্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। বাকি ২০টি অধ্যাদেশ আপাতত আইনে রূপান্তর না করার সুপারিশ করা হয়েছে।
আইনে রূপান্তরের জন্য সুপারিশকৃত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান।
এ ছাড়া আন্দোলনে যুক্ত সরকারি কর্মচারীদের ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে বরখাস্ত এবং ওয়াসার কর্মচারীদের কারণ দর্শানো ছাড়াই অপসারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়, ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের বিধান বহাল থাকলে এর অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।
তার পরও কোনো সংশোধন ছাড়াই সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কমিটির সুপারিশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংসদে সুপারিশ কার্যকর করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এতে সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হলেও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগগুলো পিছিয়ে পড়ছে।
