আত্রাইয়ে এলপিজি গ্যাস সংকট বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার


আত্রাইয়ে এলপিজি গ্যাস সংকট বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার
নওগাঁর আত্রাইয়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মিলছেনা সরকারের নির্ধারিত দামে।চরম ভোগান্তিতে গ্রামীণ জনপদের মানুষ। পুরো উপজেলা জুড়ে এলপিজি রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় সংকট বলছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।গ্রামীণ বাজার গুলোতে চড়া মূল্যে বিক্রি হলেও নেই বাজার তদারকি ব্যাবস্থা, বেশী দাম নিলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের।আশ্বাস প্রশাসে চলছে জনজীবন কার্যত নেই কোন পদক্ষেপ। ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস চলতি ফেব্রুয়ারী মাসের জন্য ৫০ টাকা দাম বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারেরদাম নির্ধারণ করা হয় ১হাজার ৩৫৬টাকা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়েও গ্রামীণ বাজার গুলোতে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না সব দোকানে। সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।প্রকার ভেদে সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেন দোকানিরা, সরেজমিনে উপজেলার আত্রাই নতুন বাজার,ভবানীপুর,পতিসর, শাহাগোলা, নওদুলি, কাশিয়াবাড়ি, বান্ধাইখাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ খুচরা দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও দাম নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে রান্নার জন্য ইলেকট্রিক ও কাঠের চুলা ব্যবহার করছেন। এতে সাময়িকভাবে রান্নার সমস্যা মিটলেও বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত সিলিন্ডার সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিলার পর্যায়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম নেওয়া হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৫০০শত টাকা। ফলে বাধ্য হয়েই তারা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন, গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে কিছু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আব্দুর রশিদ নামে ভুক্তভোগী বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না করি। ওমেরা নামের গ্যাস সিলিন্ডার একহাজার ৮০০শত টাকা দামে কিনেছি। যেখানে সংসার চালানোই কষ্ট, সেখানে এত টাকা দিয়ে গ্যাস কিনে ব্যাবহার করা গ্রামীন জনপদের মানুষের জন্য দূর্বিসহ ব্যাপার। এলপিজি ব্যবসায়ীরাও সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা র ভবানীপুর বাজারের ব্যবসায়ী জীবন ও সুয়াইব বলেন, আমরা কোম্পানি থেকে নিয়মিত সরবরাহ পাচ্ছি না। যার কারণে বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়েও আমাদের কোনো সঠিক তথ্য জানা নেই। সরবরাহ কম থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেন এই ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বাজার মনিটরিং বা কোনো ধরনের লিখিত ঘোষণা না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো.আলাউল ইসলাম বলেন, এলপিজি গ্যাস সংকট এখন একটি জাতীয় সমস্যা। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি, অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।