কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের হাতাহাতি, জুতা উঁচিয়ে তেড়ে এলেন নেতা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা বিএনপিতে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন সভাপতি পদপ্রার্থীর মধ্যে প্রকাশ্য বাগ্বিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং জুতা উঁচিয়ে তেড়ে আসার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৩১ মে) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কমিটি অনুমোদনের জন্য ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ ঘিরে এই সংঘাতের সূত্রপাত বলে জানা গেছে, যা নবীনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সম্পাদক কে এম মামুনুর রশীদের বাড়ির সামনের সড়কে। সেখানেই মুখোমুখি হন নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম এবং শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে দুই নেতার মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয়পক্ষ একে অপরের দিকে তেড়ে যান। উপস্থিত নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও উত্তেজনা থামানো যায়নি। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ মাহবুবুর রহমান নিজের পায়ের জুতা খুলে নাজমুল করিমের দিকে উঁচিয়ে ধরেন এবং মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। পরে আশপাশের নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
সংঘর্ষের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের সদস্য ও শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান কমিটি অনুমোদনের নামে অর্থ দাবির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, আমি প্রায় এক বছর ধরে কমিটির অনুমোদনের জন্য ওনার (নাজমুল করিম) পেছনে ঘুরছি...। আজ দেব, কাল দেব বলে শুধু সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। তিনি আমার কাছ থেকে কাগজপত্র নেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে কমিটির অনুমোদনের জন্য ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, আমি জানতে চেয়েছি কেন টাকা দিতে হবে? আমি দলের দুর্দিনের কর্মী। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। কমিটি আনতে যদি টাকা দিতে হয়, তাহলে তৃণমূল কর্মীরা কোথায় যাবে? এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান ইতোমধ্যেই শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির কাগজে অনুমোদন দিয়েছেন। তবে উপজেলা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর না পাওয়ায় কমিটি এখনও ঝুলে রয়েছে।
অন্যদিকে, নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম তার ফেসবুক পোস্টে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৩১ মে বিকালে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, একটি দুষ্কৃতকারী চক্র কারও ইন্ধনে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি আমি দলের হাইকমান্ডকে অবহিত করেছি।
নাজমুল করিম আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন তিনি থানায় মামলা করতে গেলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তার মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দলের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পরিবর্তে পদ-পদবি ও কমিটি কেন্দ্রিক প্রকাশ্য বিরোধ দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি ঝুলে থাকা, নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে নবীনগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা চলছে। এমন প্রকাশ্য সংঘাতের পর দলীয় হাইকমান্ড কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কিনা, সেদিকে এখন তাকিয়ে রয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
