আনচেলত্তি ও ভিনিসিউসের পুনর্মিলন সমৃদ্ধ করছে ব্রাজিলকে
অনলাইন নিউজ ডেক্স
চলতি ফিফা বিশ্বকাপে সেলেসাওদের হয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের ছন্দে ফেরা অন্যতম বড় এক গল্প হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের সেরা রূপটি মেলে ধরার পেছনে সাইডলাইনে থাকা এক পরিচিত মুখকে কৃতিত্ব দিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
বছরের পর বছর ধরে ভিনিসিউস ক্লাব ফুটবলে দ্যুতি ছড়ালেও ব্রাজিলের জার্সিতে সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্ট্রাগল করছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বিপজ্জনক আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সত্ত্বেও, সেলেসাওদের হয়ে তার অবদান প্রায়শই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছিল না।
২০২৫ সালের মে মাসে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির আগমনের পর থেকে সেই চিত্রনাট্য নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।
অভিজ্ঞ এই ট্যাকটিশিয়ান, যিনি রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিউসের সঙ্গে সফল চারটি মৌসুম কাটিয়েছেন, উইঙ্গারটির ভেতরের সেই স্ফুলিঙ্গ আবার জ্বালিয়ে তুলেছেন—যা তাকে ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছিল। আনচেলত্তি ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভিনিসিউস দলের আক্রমণের মূল ভরসায় পরিণত হয়েছেন; গোল করার পাশাপাশি দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন।
চলতি টুর্নামেন্টে খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যকার বোঝাপড়া স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভিনিসিউসের শক্তি—তার গতি, সরাসরি আক্রমণ করার প্রবণতা এবং ফাঁকা জায়গায় নিজেকে মেলে ধরার ক্ষমতা সম্পর্কে আনচেলত্তির গভীর ধারণা ব্রাজিলকে এমন একটি আক্রমণাত্মক পদ্ধতি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, যা এই ২৫ বছর বয়সীর গুণের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে।
আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ব্রাজিলের হয়ে ৩৯ ম্যাচে ভিনিসিউসের গোল ছিল মাত্র ৬টি। তবে এই ইতালিয়ানের আগমনের পর চিত্রটি পুরোপুরি বদলে গেছে; মাত্র ১৩ ম্যাচে তিনি ৭ বার জালে বল পাঠিয়েছেন এবং এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করার পর ভিনিসিউস সেই কোচের প্রভাবের কথা তুলে ধরেন, যিনি মাদ্রিদে তার ক্যারিয়ার গঠনে সাহায্য করেছিলেন।
ভিনিসিউস বলেন, ‘তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। তিনি তার খেলোয়াড়দের খুব ভালো বোঝেন এবং তাদের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নেন। তিনি এখানে এসে বুঝতে পেরেছেন আমাদের কীভাবে খেলা উচিত। আমার মনে হয় এটি কাজে দিয়েছে।’
পরিসংখ্যানের বাইরেও ভিনিসিউসের পারফরম্যান্সে এক ধরনের স্বাধীনতার স্পষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে। এই উইঙ্গারকে এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, সিদ্ধান্ত গ্রহণে পটু ও প্রভাবশালী মনে হচ্ছে; ঠিক সেই চেনা ছন্দ নিয়ে খেলছেন যা তাকে ক্লাব ফুটবলে তারকা বানিয়েছিল।
গ্রুপ ‘সি’র চ্যাম্পিয়ন হয়ে ব্রাজিল নকআউট পর্বে পা রাখায়, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে এই জুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভিনিসিউস যখন মাঠে তার পায়ের জাদু দেখাচ্ছেন, আনচেলত্তি তখন সাইডলাইন থেকে দিচ্ছেন শান্ত ও বিচক্ষণ দিকনির্দেশনা।
