ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় যাতায়াত গজারিয়ার চরাঞ্চলে স্থায়ী সেতুর দাবি
অনলাইন নিউজ ডেক্স
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরবলাকী ও শহীদ নগর গ্রামের মানুষ আজও একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা মেঘনা নদীর একটি শাখা নদীর ওপর কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, দিনমজুর ও কৃষকদের সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীবেষ্টিত চরবলাকী ও শহীদ নগর গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ওই নদীর ওপর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিটার দীর্ঘ কাঠ-বাঁশের সাঁকোটিই হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন। স্বাধীনতার পর থেকে বারবার সরকার ও জন প্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও এই সাঁকোর ভাগ্য বদলায়নি। নদীতে কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় স্থানীয়রা চাঁদা তুলে অস্থায়ীভাবে এই সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছেন।চরবলাকী গ্রামের বাসিন্দা রহমতুল্লাহ মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে এই সাঁকো দেখেই বড় হয়েছি। বয়স এখন ৭০ পেরিয়েছে, কিন্তু আজও সাঁকো বদলায়নি। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এরই মধ্যে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে।সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষক কাশেম মিয়া জানান, “আলু, ধান ও শাকসবজি বাজারে নিতে বড় সমস্যায় পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে কম দামে ক্ষেত থেকেই পণ্য বিক্রি করতে হয়। স্বাধীনতার পর থেকেই শুনছি এখানে সেতু হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।”হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নবি হোসেন সরকার বলেন, নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে এই অবহেলিত এলাকায় আমূল পরিবর্তন আসবে। মানুষের আয় বাড়বে, যোগাযোগ সহজ হবে এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিরাপদ হবে। মানুষের জীবন ও জীবিকার স্বার্থে দ্রুত সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন জানান, এলজিইডির অধীনে চরবলাকী ও শহীদ নগর গ্রামের মাঝের নদীর ওপর একটি দীর্ঘ ও টেকসই জেটি নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে শিগগিরই অগ্রগতি হবে।
