তিন সংঘর্ষের পর বাসে আগুন, দগ্ধ ৪ জনের মৃত্যু


তিন সংঘর্ষের পর বাসে আগুন, দগ্ধ ৪ জনের মৃত্যু
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় শুক্রবার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বাসে আগুন লেগে দগ্ধ হয়ে ৪ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৬ জন। দুর্ঘটনার আগে বাসের চালক এক যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ৬ জেলায় সড়কে প্রাণ গেছে ৯ জনের। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ৩ জন ও কর্ণফুলীতে যুবক, নোয়াখালীর চাটখিলে ব্যবসায়ী, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সাবেক ইউপি সদস্য, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে শিশু, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে শিশু এবং মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে চালকের সহকারী রয়েছেন। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ- কুমিল্লা ও দাউদকান্দি : নিহতরা হলেন-মোটরসাইকেলচালক দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নাই (পলুদ্দিপাড়) গ্রামের শামীম ও তার ছেলে নাদিম, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার মাঝেরচর গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে হোসাইন ও চল্লিশোর্ধ্ব অজ্ঞাত এক নারী। বাসের এক যাত্রীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, যাত্রী উঠানোর জন্য অনেকক্ষণ গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকায় বাসচালকের সঙ্গে এক যাত্রীর বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর চালক ক্ষিপ্ত হয়ে বেপরোয়া ও এলোমেলোভাবে বাসটি চালাতে শুরু করেন। বানিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তেই বাসটি উলটে পড়ে আগুন ধরে গেলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহত বাসযাত্রী সুমন বলেন, আমরা চিৎকার করলেও চালক শোনেননি। তিনি বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালাচ্ছিলেন। আমি এবং আমার স্ত্রী বের হলেও দেড় বছরের ছেলে হোসাইনকে বের করতে পারিনি। দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালান। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ অন্তত ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উলটে মাইক্রোবাসে ধাক্কা লেগে দুজন নিহত হয়েছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তুরনিপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন-ফেনীর ফুলগাজীর উত্তর আনন্দপুর এলাকার সাইদুল হক মজুমদার ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা এলাকার আরমান হোসেন। মীরসরাই ও কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) : সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা গাছ বোঝাই ট্রাকের পেছনে সেন্টমার্টিন পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় নিহতরা হলেন-মীরসরাই উপজেলার মসজিদিয়া এলাকার নাফিজ আহমেদ অয়ন, চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের ছাবিতুন নাহার ও গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার মিন্টু মিয়া। এদের মধ্যে অয়ন মার্চেন্ট নেভি সদস্য বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই উপজেলার ধুমঘাট এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। কর্ণফুলী উপজেলায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় নিহত আলী আব্বাস আনোয়ারা উপজেলার ঝিওরী গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার দৌলতপুর ফাজিল খাঁর হাট এলাকায় পিএবি সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চাটখিল (নোয়াখালী) : বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত রিজভি হোসেন সুজন চাটখিল পৌরসভার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত মনির হোসেনের ছেলে। বৃহস্পতিবার চাটখিল উপজেলা পরিষদের মেইন গেটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বাইসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত গিয়াস উদ্দিন গফরগাঁওয়ের বারবাড়িয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার উত্তরণপাড়া কেবিআই সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) : মাহিন্দ্রা গাড়িচাপায় নিহত সুরাইয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামের ইলিয়াস হাওলাদারের মেয়ে। শুক্রবার একই গ্রামে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : অটোরিকশাচাপায় নিহত আরিয়ান হাসান পশ্চিম কাপাশিয়া গ্রামের মেহেদী হাসানের ছেলে। শুক্রবার উপজেলার গোল্লারপাড় বটগাইচ্ছা ব্রিজ এলাকায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) : যাত্রীবাহী বাস ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেওয়ায় নিহত তারেক চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা। শুক্রবার সিরাজদিখান উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনাটি ঘটে।