পটিয়ায় ছিনতাই হওয়া ২৮৪ বস্তা চিনি চকরিয়া থেকে উদ্ধার
অনলাইন নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা থেকে ১৫ টন চিনিবোঝাই কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং থেকে আরও সাড়ে ৭ টন চিনি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে হারবাং ইউনিয়নের নোনাছড়ি এলাকার একটি বন্ধ টেইলার্সের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৫০ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর (চকরিয়ার লাগোয়া) বাজারের একটি গুদাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ১৩৪ বস্তা। দুই দফায় লুণ্ঠিত ৩০০ বস্তা চিনির মাঝে এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২৮৪ বস্তা। বাকি ১৬ বস্তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় করা মামলায় কাভার্ডভ্যানের চালক আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলায় আজিজনগর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রাহাত উদ্দিন জুয়েলকেও আসামি করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চালক আলমগীর অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে চিনিগুলো আত্মসাৎ করেছেন। তবে এ অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।
হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মনির জানান, চিনির মালিক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার পটিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় কাভার্ডভ্যানের চালক আলমগীর ও মুদি ব্যবসায়ী জুয়েলকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পটিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হারবাংয়ের নোনাছড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বন্ধ দোকান থেকে ১৫০ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। দোকানটির মালিক রাসেল। তিনি আজিজনগর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী জুয়েলের ভাই।
পুলিশের দাবি, আজিজনগর বাজারের রাজিব স্টোরের মালিক জুয়েল বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে চিনিগুলো কিনে স্থানীয় দোকানগুলোতে বিক্রি করতেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ হয়নি।
হারবাং ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল আহমদ বলেছেন, জুয়েল ও রাসেল আপন ভাই। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার রাত থেকে তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাসেলের বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।
এর আগে বুধবার রাতে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর বাজারের একটি গুদাম থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং-সংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কে নবনির্মিত কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। ওই গাড়িতে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ১৫টন চিনি ছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, লুণ্ঠিত বাকি চিনির সন্ধান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
