বিশ্বকাপে ‘বিস্ময় বালক’ হতে পারেন ইয়ামাল
অনলাইন নিউজ ডেক্স
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আসর যত ঘনিয়ে আসছে, ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন তরুণ তুর্কিদের দিকে। মাঠ মাতাতে প্রস্তুত অনুর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী ফুটবলারদের নিয়ে বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন করছে ফিফা। এই প্রতিবেদনের মূল আকর্ষণ স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল।
এক নজরে লামিন ইয়ামাল
জন্মদিন: ১৩ জুলাই ২০০৭
দল: স্পেন ও এফসি বার্সেলোনা
আন্তর্জাতিক অভিষেক: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, প্রতিপক্ষ জর্জিয়া (মাত্র ১৬ বছর বয়সে)
পজিশন: রাইট উইঙ্গার
খেলার ধরন ও দক্ষতা: নিখুঁত পাসিং, চমৎকার ড্রিবলিং, খেলার গতি বোঝার দারুণ ক্ষমতা, মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ এবং অ্যাসিস্ট ও গোল করায় অনন্য পারদর্শিতা।
কেন এবারের বিশ্বকাপে আলো ছড়াবেন ইয়ামাল? লামিন ইয়ামাল এখন আর কেবল ‘উদীয়মান প্রতিভা’র তালিকায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং বার্সেলোনা এবং স্পেন ফুটবল দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবেই আসন্ন বিশ্বকাপে মাঠে নামবেন এই তরুণ উইঙ্গার। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের আক্রমণভাগের অন্যতম মূল ভরসা তিনি।
ইয়ামালের এই উত্থান রূপকথার মতো। ২০২৫ সালের ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ পুরস্কারে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভাঙছেন একের পর এক রেকর্ড। মাত্র ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হওয়া এই ফুটবলার ক্লাব ও লা লিগার ইতিহাসের কনিষ্ঠতম গোলদাতা। একই সঙ্গে স্পেনের জাতীয় দলের ইতিহাসেও সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক ও গোল করার কীর্তি তার।
গত ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি, তাও নিজের ১৭তম জন্মদিনের ঠিক আগের দিন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত দূরপাল্লার গোলটি তাকে ইউরোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার মর্যাদা এনে দেয়। টুর্নামেন্টে চারটি অ্যাসিস্ট করে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতে নেন তিনি।
বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে উঠে আসা এই উইঙ্গার এখনো ১৯ বছরে পা দেননি। এর মধ্যেই স্পেনের হয়ে ২৫টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন, বার্সেলোনার জার্সিতে খেলেছেন ১৫০টিরও বেশি ম্যাচ এবং জিতেছেন তিনটি লা লিগা শিরোপা। এবার তার লক্ষ্য ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়া।
ইয়ামালকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বের গুণীজনরা যা বলছেন:
‘নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে হলে আমি লামিনকেই রাখব। এই বয়সে সে যা করে দেখিয়েছে এবং সামনে তার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা এক কথায় অসাধারণ।’ — লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও সাবেক বার্সেলোনা তারকা
‘সে স্পেশাল। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জিনিয়াস হওয়ার সব গুণ তার আছে। ১৫-১৬ বছর বয়সেই সে পেশাদার ফুটবলারদের অনায়াসে ড্রিবল করত। এমন কিছু ম্যাজিক সে দেখাত, যা কেবল মেসি বা নেইমারদের মতো তারকাদের থেকেই আশা করা যায়।’ — জাভি হার্নান্দেজ, সাবেক বার্সেলোনা কোচ (যার অধীনে ইয়ামালের অভিষেক হয়েছিল)
‘তার বয়স মাত্র ১৮ বছর, কিন্তু এখনই সে একজন অবিশ্বাস্য ফুটবলার। সে একদিন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা, হয়তো সর্বকালের সেরাদের একজন হবে।’ — হানসি ফ্লিক, বার্সেলোনা কোচ
‘সময়ের সাথে সাথে বোঝা যায় কারা ভালো খেলোয়াড় আর কারা স্পেশাল। লামিন দ্বিতীয় ক্যাটাগরির। এটা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া উপহার। ২৪-২৫ বছরের একজন পরিপক্ক ফুটবলারের মতো সে খেলে। অসাধারণ এক প্রতিভা।’ — লুইস দে লা ফুয়েন্তে, স্পেন দলের প্রধান কোচ
‘সে এক দুর্দান্ত খেলোয়াড়, যে একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।’ — পাউ কুবারসি, বার্সেলোনা ও স্পেনে ইয়ামালের সতীর্থ
‘আমি যখন ১৫ বছর বয়সে তাকে প্রথম অনুশীলনে দেখি, অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। জীবনে অনেক প্রতিভাবান তরুণ দেখেছি, কিন্তু ওকে দেখে প্রথমবার মনে হয়েছিল— এত কম বয়সে এই স্তরে খেলা কীভাবে সম্ভব! সে যা করছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’ — রবার্ট লেভানডফস্কি, বার্সেলোনা সতীর্থ
‘অনন্য একজন ফুটবলার হয়ে ওঠার সব ক্ষমতাই তার আছে। তার প্রতিভা অফুরন্ত।’ — আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সাবেক স্পেন ও বার্সেলোনা মিডফিল্ডার
‘২৪ বা ২৫ বছরের আগে ফুটবলারদের মধ্যে এমন পরিপক্কতা সাধারণত দেখা যায় না। অনেক সময় এমন প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা বল পেলেই অতি-উত্তেজনা দেখায়, যেমন বাস্কেটবলে স্টিফেন কারি বল পেলেই থ্রি-পয়েন্টার শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লামিনের সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে খেলাটা খুব ভালো বোঝে।’ — পেপ গুয়ার্দিওলা, সাবেক বার্সেলোনা কোচ
‘সে এক বিস্ময়কর ফুটবলার। এমন প্রতিভা ৫০ বছরে একবার আসে। আমি নিজের চোখে এর আগে এমন প্রতিভা দেখিনি।’ — সিমোনে ইনজাঘি, সাবেক ইন্টার মিলান কোচ
২০২৬ বিশ্বকাপে লামিন ইয়ামাল ও স্পেনের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ:
১৫ জুন: স্পেন বনাম কেপ ভার্দে (আটলান্টা স্টেডিয়াম)
২১ জুন: স্পেন বনাম সৌদি আরব (আটলান্টা স্টেডিয়াম)
২৬ জুন: উরুগুয়ে বনাম স্পেন (গুয়াদালাহারা স্টেডিয়াম)
