মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় নতুন প্ল্যাটফর্ম: একসঙ্গে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তান
অনলাইন নিউজ ডেক্স
মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন এক কৌশলগত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর এবং পাকিস্তান। গত বৃহস্পতিবার রিয়াদ-এ ইসলামি দেশগুলোর এক সম্মেলনের ফাঁকে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে মিলিত হয়ে এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
সূত্র জানায়, এটি ন্যাটো-এর মতো কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়; বরং প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। বৈঠকে প্রথমবারের মতো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সক্ষমতা একীভূত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়।
এই উদ্যোগের পেছনে গত বছর থেকেই সক্রিয় ছিল তুরস্ক, যারা পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং পরবর্তীতে এতে মিসর-কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, একজোট না হলে বাইরের শক্তি নিজেদের স্বার্থে সমাধান চাপিয়ে দিতে পারে। তিনি পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন অবস্থান এবং নির্দিষ্ট ইস্যুতে যৌথ কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়েও আলোচনা হয়, বিশেষ করে ইরান-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে। যদিও তুরস্ক ইসরায়েলকে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখে, যৌথ বিবৃতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার সমালোচনা করা হয়েছে।
এই সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্মে চার দেশের ভিন্ন ভিন্ন শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে— উন্নত ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে তুরস্ক, পারমাণবিক সক্ষমতায় পাকিস্তান, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগে সৌদি আরব এবং বৃহৎ সামরিক উপস্থিতিতে মিসর।
সম্প্রতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান-এর কায়রো সফরে তুরস্ক ও মিসর-এর মধ্যে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন’ মিসরের সঙ্গে প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের অস্ত্র রপ্তানি চুক্তি করেছে।
