১০ দিনে চার বার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা মানুষ


১০ দিনে চার বার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা মানুষ
ভারতে আবারও বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি চতুর্থ দফার মূল্যবৃদ্ধি। একের পর এক দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহণ, বাজারদর এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর। ভালো দিনের প্রতিশ্রুতির মধ্যে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে এখন চাপে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। সোমবার (২৫ মে) রাজধানী দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৬১ পয়সা। নতুন দাম হয়েছে ১০২ টাকা ১২ পয়সা। ডিজেলের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৭১ পয়সা। সেখানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা ২০ পয়সায়। কলকাতাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছেন সাধারণ মানুষ। শহরে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম বেড়ে হয়েছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা। ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৯ টাকা ৮২ পয়সায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে জ্বালানির দামে সাত টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মুম্বই ও চেন্নাইতেও একই ছবি। মুম্বইয়ে এক লিটার পেট্রল বিক্রি হচ্ছে ১১১ টাকার বেশি দামে। ডিজেলের দামও প্রায় ৯৮ টাকা। চেন্নাইয়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রায় ১০৮ ও ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়া মানে শুধু গাড়ি চালানোর খরচ বৃদ্ধি নয়। এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় দুধ, রুটি ও দৈনন্দিন খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। পরিবহণ ব্যয় বাড়ায় বাজারে চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ১৫ মে প্রথম দফায় এক লাফে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম তিন টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ১৯ মে আবার মূল্যবৃদ্ধি হয়। ২৩ মে নতুন করে দাম বাড়ার পর সোমবার ফের বড় ধাক্কা দেওয়া হলো। ফলে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে জ্বালানির দাম কয়েক দফায় বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তেল সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ভারত যেহেতু বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে, তাই বিশ্ববাজারের প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে। ভারতের বৃহৎ তেল সংস্থাগুলোর বক্তব্য, দীর্ঘদিন বেশি দামে তেল কিনেও দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিল তারা। সেই ক্ষতি সামাল দিতেই দাম বাড়ানো ছাড়া আর উপায় ছিল না। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে কেন বারবার জনগণের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতিতে নাজেহাল মানুষ। তার ওপর লাগাতার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সবকা সাথ সবকা বিকাশ এবং আচ্ছে দিনের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে এখন সাধারণ মানুষকে বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হচ্ছে। সামনে আরও দাম বাড়তে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে।