১৮ হাজার পুলিশেও নিশ্চিত হতে পারছে না সরকার, এবার আওয়ামী লীগ ঠেকাতে সেনা মোতায়েন
অনলাইন নিউজ ডেক্স
১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েনের পরেও নিশ্চিত হতে পারছে না বিএনপি সরকার, এবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আগামীকাল ২৩শে জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এটিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি দমনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ২২শে জুন থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাত সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর পাঠানো চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে সেনা মোতায়েন নজিরবিহীন। তাদের ভাষ্য, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে।
দলটির নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো একটি সাংগঠনিক দিবস পালনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অজুহাতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করার শামিল।
এদিকে ২৩শে জুনকে ঘিরে এর আগেই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারাদেশে সতর্কতামূলক বার্তা পাঠানো হয়েছে। পুলিশকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
ঢাকা মহানগর পুলিশও রাজধানীর নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দুই শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হবে বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট। পাশাপাশি ডিবি, সিটিটিসি, এসবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারি চালাবেন।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার অংশ হিসেবেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত না করে আইনশৃঙ্খলার নামে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
