১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো


১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো
১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকোর মানুষের কাছ থেকে পাওয়া দারুণ সমর্থন এবং ইতালির বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি কেন তাদের জন্য সবচেয়ে ‘সহজ’ ছিল—তা নিয়ে ফিফার সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি হাতড়ালেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রিভেলিনো। ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর রবার্তো রিভেলিনো এখন স্টেডিয়ামের সেই চিৎকার-চেঁচামেচি ছেড়ে সাও পাওলোর এক শান্ত গ্রামে থাকেন। সেখানে এখন শুধুই পাখির ডাক শোনা যায়। তবে ফুটবলের বড় বড় মঞ্চের স্মৃতিগুলো ব্রাজিলের এই কিংবদন্তির মনে এখনো ভেসে ওঠে। বিশেষ করে ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের কথা তিনি ভুলতে পারেন না। রিভেলিনো জানান, ব্রাজিলের তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পেছনে মেক্সিকোর চমৎকার পরিবেশ বড় ভূমিকা রেখেছিল। চোখ বন্ধ করলেই তিনি এখনো ইতালির বিপক্ষের সেই ফাইনালে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের ১ লক্ষ দর্শকের চিৎকার শুনতে পান। তবে মেক্সিকোর মানুষের সঙ্গে ব্রাজিল দলের এই ভালোবাসার সম্পর্ক ফাইনাল ম্যাচের অনেক আগেই তৈরি হয়েছিল। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিভেলিনো বলেন, ‘১৯৭০ সালে মেক্সিকোতে আমাদের অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। কারণ ফাইনাল খেলার আগ পর্যন্ত আমরা গুয়াদালাহারা শহরেই ছিলাম। আমরা একের পর এক ম্যাচ জিতছিলাম, তাই পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের একই শহরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। এই কারণে পুরো বিষয়টা আমাদের কাছে খুব স্পেশাল ছিল। এরপর আমরা ফাইনাল খেলতে গেলাম কানায় কানায় ভরা অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে—যেটি ছিল এক বিশাল মাঠ।’ কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক মেক্সিকো বিদায় নেওয়ার পর, দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা ব্রাজিল দলকে মন-প্রাণ দিয়ে সমর্থন করতে শুরু করেন। এটি ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। ব্রাজিলও দুর্দান্ত খেলে দর্শকদের সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছিল। পেলে, তোস্তাও, গার্সন, জাইরজিনহো এবং রিভেলিনোর মতো তারকাদের জাদুকরী খেলায় ব্রাজিল তাদের সবকটি (ছয়টি) ম্যাচেই জয় পায়। রিভেলিনো বুঝিয়ে বলেন, ‘মেক্সিকো যখন বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে গেল, তখন মেক্সিকোর মানুষ আমাদের আপন করে নিলেন। এর কারণ ছিল আমাদের খেলার চমৎকার ধরন এবং ফুটবলের জাদু। তারা আমাদের সত্যিই মনে জায়গা দিয়েছিলেন এবং মন থেকে সমর্থন করেছিলেন। এই কারণেই ফাইনাল ম্যাচটি দেখার মতো একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’ মেক্সিকোর মাটিতে ব্রাজিলের ফুটবল জাদু ব্রাজিল দলের এই দাপট কিন্তু হুট করে আসেনি। এটি ছিল এমন একটি দল, যারা মাঠে নামলেই প্রতি ম্যাচে নিজেদের খেলা আরও উন্নত করে তুলছিল। দলের ভেতরের বোঝাপড়া এবং আত্মবিশ্বাস এতটাই বেশি ছিল যে, রিভেলিনোর মতে, কোনো প্রতিপক্ষের পক্ষেই তাদের থামানো সম্ভব ছিল না। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে ব্রাজিলের খেলার ধার বাড়ছিল। এমনকি টুর্নামেন্টে আরও দুই-তিনটি ম্যাচ হলেও আমার মনে হয় না কেউ আমাদের হারাতে পারত। আমরা দিন দিন আরও ভালো খেলছিলাম। আর তার ওপর আমাদের দলে ছিলেন ফুটবল সম্রাট পেলে। এমন খেলা কে না দেখতে চাইবে?’ দলের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঁ-পায়ের মালিক—যাকে সবাই ‘পাতাদা অ্যাটমিকা’ (পারমাণবিক লাথি) নামে ডাকত—তিনি বেশ শান্তভাবেই ফাইনাল ম্যাচের কথা মনে করলেন। তার মতে, শক্তিশালী ইতালির বিপক্ষের সেই ফাইনাল ম্যাচটিই ছিল পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে সহজ ম্যাচ। পেলে এবং ইতালির রবার্তো বোনিনসেগনিয়ার গোলে প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল একচেটিয়া খেলে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। গার্সন, জাইরজিনহো এবং কার্লোস আলবার্তোর গোলে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে বিশাল জয় নিয়ে ট্রফি জিতে নেয়। রিভেলিনো বলেন, ‘বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আমাদের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির এবং “সহজ” ম্যাচ ছিল ইতালির বিপক্ষের ফাইনালটি। এটা শুনে হয়তো মনে হতে পারে, “সে কী, ফাইনাল ম্যাচ আবার সহজ হয় নাকি?” কিন্তু মাঠে আমার মনে হচ্ছিল আমরা অনায়াসে পাঁচটি গোল করতে পারতাম। এমনকি আমি যখন গোল করার জন্য একদম তৈরি, তখন এক ডিফেন্ডার আমাকে ফাউল করে ফেলে দেন। কিন্তু আমরা তখন ৪-১ গোলে এগিয়ে থাকায় রেফারি আর পেনাল্টি দেননি।’ ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে পুরো অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে আনন্দের এক তুমুল হুলস্থুল পড়ে যায়। মেক্সিকোর সমর্থকরা নিরাপত্তার দেওয়াল ভেঙে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরে উদযাপন করতে থাকেন। হাসিমুখে সেই স্মৃতি মনে করে রিভেলিনো বলেন, ‘ফাইনাল ম্যাচের কথা মনে করলেই ভেসে ওঠে, খেলা শেষ হওয়া মাত্র মেক্সিকোর ভক্তরা মাঠে নেমে এসেছিলেন। তারা পেলের মাথায় একটি মেক্সিকান টুপি (সোমব্রেরো) পরিয়ে দিয়েছিলেন। সেটি ছিল এক চরম উন্মাদনা! আজকাল এমনটা আর দেখা যায় না। কিন্তু তখনকার দিনে মানুষ মাঠে চলে আসত। তোস্তাওয়ের তো প্রায় অন্তর্বাস ছাড়া সব পোশাকই টেনে খুলে নেওয়া হয়েছিল। ভাবা যায় না!’ গৌরবের সেই মঞ্চে ফিরে যাওয়া পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর, উত্তর আমেরিকায় আরেকটি বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। আর এই বিশ্বকাপ মেক্সিকোর সঙ্গে রিভেলিনোর সেই পুরোনো স্মৃতিকে আবারও তাজা করে তুলেছে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি মাঠে উপস্থিত থাকবেন। যদিও রিভেলিনো সম্মাননা নেওয়ার জন্য এর আগে বেশ কয়েকবার মেক্সিকোতে গিয়েছেন, কিন্তু যে মাঠে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেখানে আর যাওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে, আরেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফুর সঙ্গে তাকে মেক্সিকোর ‘পাচুকা ফুটবল হল অব ফেমে’ জায়গা দেওয়া হয়। সাবেক এই মিডফিল্ডারকে মেক্সিকো সিটির একটি প্রতীকী চাবিকাঠি দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল—যা ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপজয়ী নায়কদের দেওয়া একটি বিশেষ সম্মান। তিনি এখন দিন গুনছেন সেই চেনা মাঠে আবার পা রাখার জন্য, যা তাদের প্রজন্মকে ফুটবল ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি দারুণ মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। প্রায় ৫৬ বছর পর আমি সেখানে আবার পা রাখব। আমি সত্যিই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

সর্বশেষ :

আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল!   আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ   ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী   কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার   হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?   ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা   বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা   নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো   ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো