৫ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান
অনলাইন নিউজ ডেক্স
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান আগামী ২৯ মার্চ থেকে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। স্ত্রী ও সফর সঙ্গীসহ ২৮ মার্চ রাতে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন সফর করেছিলেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভারতের নর্থইস্ট নিউজ সংবাদটি পরিবেশন করেছে।
নর্থইস্ট নিউজ জানায়, বর্তমান সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে।
অপরদিকে সাবেক ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, যা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন মোড় দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেবল আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে নয়, বরং কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন এবং পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের উত্থানের পর সেনাবাহিনীর ভূমিকাও আলোচনায় আসে। সেই প্রেক্ষাপটে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের এই সফর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও সামরিক কূটনীতিকে আরও সুসংহত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সফরকালে সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, পেন্টাগনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।
এই সফরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী সারাহনাজ কামালিকা জামান এবং তিনজন ব্রিগেডিয়ার—মোহাম্মদ সেরাফউদ্দিন খান, নাজমুল হাসান ও মোহাম্মদ এহসানুল হক—অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি একজন ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তাও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরকালে সেনাপ্রধান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেন। সেই সফরে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন, যা দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে সহায়ক হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই বিবেচনায় সেনাপ্রধানের এই সফর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পাঁচ দিনের এই যুক্তরাষ্ট্র সফর বাংলাদেশের সামরিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
