সহিংসতার আলোচনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা


সহিংসতার আলোচনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুলপ্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। অন্যবারের চেয়ে এবার নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা বেশি। নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, সহিংসতার আশঙ্কাও তত বাড়ছে। আর এতে জনমনে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। তবে এমন আতঙ্ক দূর করার পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এবারই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। সূত্র বলছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবারের নির্বাচনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। শুধু সশস্ত্র বাহিনী থেকেই ১ লাখ ৮ হাজারের মতো সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। এই সংখ্যা ২০২৪, ২০১৮ ও ২০০৮ সালের তুলনায় অনেক বেশি। আগের তিন নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ করা হয় ৪০ থেকে ৪২ হাজার। এছাড়াও এবার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার। সেনাবাহিনীর ‘ইন অ্যাইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগে থেকেই সারা দেশে সেনা মোতায়েন আছে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন তারা। এছাড়া নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এবারের নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য থাকবেন ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন। বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, র‌্যাবের প্রায় ৮ হাজার, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫০০ এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাড়ে ৬ লাখ, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ লাখ ৮ হাজার এবং ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনি নিরাপত্তার বিষয়ে সোমবার রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নগরবাসীর নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে নাগরিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ বছর ঢাকা মহানগর এলাকায় ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, ভোটার সংখ্যা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে ভোট কেন্দ্রগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রে চারজন করে এবং সাধারণ ৫১৭টি ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া আমরা আরও ৩৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে চিহ্নিত করেছি। এই ৩৭টি কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি জানার জন্য একজনের কাছে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। এছাড়া একাধিক ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম এবং ৫১০টি মোবাইল টিম। এদিকে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি ও জামায়াতের চলছে পালটাপালটি অভিযোগ। তবে জনমনে আলোচনা হলো-এবারই সবচেয়ে বেশি সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। আর এজন্যই এবার নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনের চেয়ে দ্বিগুণ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যাও আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা সারা দেশে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, নির্বাচনে শুরুর দিকে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা গেলেও বিভিন্ন দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত, কোন্দল, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান অস্থিরতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ফেলে দিয়েছে হুমকির মুখে। সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, এখন পর্যন্ত মেজর কোনো ইনসিডেন্ট ঘটেনি। টুকটাক সামান্য ঘটনা ঘটেছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সর্বশক্তি মোতায়েন করেছে সরকার। তিনি বলেন, বিগত সরকার পতনের পর পুলিশের ওপর যে ট্রমা গেছে, সে তুলনায় সবার সহায়তায় পুলিশের মনোবল যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি অত্যন্ত ভালো। দেশের জনগণ এবং সব রাজনৈতিক দল চায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। নির্বাচন ঘিরে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতেও তারা চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের। ফলে আমি আশা করি, কেউ হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না। নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যে কারণে সংঘাত ও সহিংসতার যথেষ্ট শঙ্কা আছে। পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের এখনো একটা অংশ উদ্ধার হয়নি। সীমান্ত হয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে এবং বিগত সময়ের বৈধ অস্ত্রও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা পড়েনি। এর সঙ্গে এআই-এর ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তপ্ত কনটেন্ট বিনিময়, মব সহিংসতা, ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আধিপত্য বিস্তার-এসব নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, কেউ কোনো অপরাধ বা সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি করলে তিনি কোন দলের, তার ব্যক্তি ইমেজ, তিনি কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন-এই প্রসঙ্গগুলো দ্বারা যদি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রভাবিত হয়, তখন আশঙ্কা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। কী ঘটবে বা ঘটবে না, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বা প্রশাসন কত দ্রুততার সঙ্গে কোনো একটি পরিস্থিতি আগে থেকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কী ব্যবস্থা নিয়েছে এর ওপর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজার : পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজার ৩৫৯টি। ঝুঁকি নেই, এমন ভোটকেন্দ্র (সাধারণ) ১৭ হাজার ৬৫৬। ঢাকা মহানগরীতে ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডিএমপি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, এবার মহানগর এলাকার বাইরে সারা দেশে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ থেকে ১৭ জন সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন মোতায়েন থাকবেন। আর মহানগর এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন থাকবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এসব সদস্য ভোট গ্রহণের দুদিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে রোববার পর্যন্ত দেশের চারটি মহানগর ও পাঁচটি বিভাগের ৩৪টি শুটিং ইনসিডেন্টে ১০ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২, ঢাকা বিভাগে ২, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ এবং খুলনা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তথ্য বলছে, ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৫ জন। সহিংস ঘটনাগুলোকে ১১টি শ্রেণিতে (ক্যাটাগরি) ভাগ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৮৯টি। সহিংসতার তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে নির্বাচনি প্রচারকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। তৃতীয় সর্বোচ্চ সহিংসতা হয়েছে নির্বাচনি অফিস ও প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ২০টি। প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। এছাড়া ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১৬টি। এই সময়ে ৩টি ঘটনায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৯টি। সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ১টি। এছাড়া বিক্ষোভ বা অবরোধের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি। নির্বাচনের দিন ঘটতে পারে সহিংসতা : দেশের রাজনীতিতে আলোচনা হলো-এবার আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও নির্বাচন যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হচ্ছে। বিশেষ করে, বড় দুটি দল বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে-এমন ধারণা বেশির ভাগ মানুষের। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, দুই দলই যেহেতু মনে করছে তারা জয়লাভ করবে; তাই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। অর্থাৎ কেউ নির্বাচন বর্জন করবে না, এটি স্পষ্ট। অন্যদিকে দুই দলেরই মাঠে যথেষ্ট কর্মী-সমর্থক থাকায় সহিংসতাও ঘটতে পারে। কারণ, কেউ কাউকে ছাড় দেবে না। এদিকে বিএনপি যেমন ৮টি দলকে আসন ছাড় দিয়েছে; তেমনই জামায়াতের সঙ্গে ১১ দলীয় জোটে এনসিপিসহ কয়েকটি দল রয়েছে। তারাও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিচ্ছে। এছাড়াও জামায়াত-বিএনপি ও এনসিপির বাগ্বিতণ্ডায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপির দলীয়ও ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যেও সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। সারা দেশে বিএনপির ৬৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। গত কয়েকদিনে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াত একে অন্যের বিরুদ্ধে দফায় দফায় অভিযোগ করেছে। বিএনপির বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে অপপ্রচার চালানোসহ নানা অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। রোববার দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে গিয়ে এসব অভিযোগ জানায়। এর আগে বিএনপির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির, খেলাফত মজলিসের আমির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ককে সতর্ক করে চিঠিটি পাঠানো হয়।