মডেল মেঘনার দাবি: মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার পেছনে দায়ী ‘ডার্বি নাসির’
অনলাইন নিউজ ডেক্স
রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মির্জা আব্বাস এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারি। যিনি অনেকের কাছে ‘ডার্বি নাসির’ নামেও পরিচিত।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে-তরুণ এই নেতার বিভিন্ন মন্তব্য ও আচরণে দীর্ঘদিন ধরেই বিব্রত বোধ করছিলেন প্রবীণ রাজনীতিক মির্জা আব্বাস। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কটূক্তি ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী।
সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত মির্জা আব্বাসের বাসার সামনে গিয়ে উচ্চস্বরে ডিজে পার্টি করা এবং তাকে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘গ্যাংস্টার’ আখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন বলে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন মির্জা আব্বাস। তিনি তখন বলেন, নাসির তার ছেলের বয়সী এবং রাজনীতিতে শিষ্টাচার থাকা উচিত।
এর মধ্যেই হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। সংসদ অধিবেশন বসার দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অসুস্থতার জন্য নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্যকে দায়ী করে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যে আলোচনায় এসেছে অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মডের মেঘনা আলমের একটি ফেসবুক পোস্ট। সেখানে তিনি দাবি করেন, মির্জা আব্বাসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার সময় তিনি একজন ভদ্র ও শিষ্টাচারসম্পন্ন মানুষকে দেখেছেন।
তার পোস্টে মেঘনা আলম লিখেছেন, একবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি লিফলেট দিলে মির্জা আব্বাস চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে সেটি গ্রহণ করেন। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, সিনিয়র এই নেতার মধ্যে ভদ্রতা ও সম্মানবোধ কতটা রয়েছে।
মেঘনা আলম আরও বলেন, এক সময় মির্জা আব্বাস নিজেই তাকে জানিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা রয়েছে। তখন তিনি তাকে সাহস দিয়ে বলেন, জনপ্রিয় রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে এমন মামলা থাকতেই পারে, এতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই।
সম্প্রতি নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর একটি মন্তব্যে মির্জা আব্বাসের ছেলেকে জড়িয়ে কথা বলার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সন্তানের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই এ ধরনের মন্তব্য করা ঠিক হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে মেঘনা আলম আরও মন্তব্য করেন, মির্জা আব্বাসের কিছু হলে তার প্রায় ‘৮০ শতাংশ দায়’ নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর অনিয়ন্ত্রিত বক্তব্যের ওপর বর্তাতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীও মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর আচরণের সমালোচনা করছেন, আবার কেউ পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেও দেখছেন।
