জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর প্রায় দেড় বছর আমি কাজ পাইনি: বাঁধন


জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর প্রায় দেড় বছর আমি কাজ পাইনি: বাঁধন
অভিনয়ে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করলেও, স্পষ্টভাষী ইমেজের কারণে নানা চ্যালেঞ্জের কথাও খোলামেলা জানালেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। কাজ পাওয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সংগ্রাম—সবকিছু নিয়েই তিনি কথা বলেছেন নিজের মতো করে। অন্যদিকে, ঈদে মুক্তি পেয়েছে বাঁধনের সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এছাড়া ষষ্ঠদিন ওটিটিতে আসবে ‘চক্র-২’ ওয়েব সিরিজ। ঈদ আয়োজন তারকা আড্ডায় এসে জানালেন এ দুটোতে কাজ করাটা দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল তার। বিশেষ করে মেয়ের পছন্দের কারণেই বনলতা এক্সপ্রেস পরিচালক তানিম নূরের সঙ্গে কাজ করা। চক্র-২’টিমটাও বেশ গোছানে বলে জানালেন তিনি। কথা বললেন ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়েও। ‘আমার যে ইমেজটা তৈরি হয়েছে, স্পষ্টভাষী, সরাসরি কথা বলি—এটার কারণে আসলে অনেক সময় কাজ পাওয়ায় সমস্যা হয়। আমাকে তখনই নেওয়া হয় যখন একান্ত প্রয়োজন হয়। খুব ভালো লাগা থেকে বা ‌‘ওকেই নিতে হবে’, এই জায়গা থেকে খুব বেশি সুযোগ আসে না। বরং অনেক জায়গা থেকেই বাদ দেওয়া হয়। অনেকে ভাবে আমি অনেক ঠোঁটকাটা, অনেক ঝামেলা করি’’—বললেন বাঁধন। ‘আসলে আমি খুবই ডিসিপ্লিনড। আমি সময় মতো সেটে যাই, আর গিয়ে দেখি অনেক কিছু ঠিকঠাক হচ্ছে না—তখন হয়তো বলি। সেটাই অনেকে ভালোভাবে নেয় না। আমাদের এখানে একটা ধারণা আছে—নায়িকা মানে হবে চুপচাপ, সুন্দর, শান্তশিষ্ট, ভদ্র। কিন্তু আমি পুরো উল্টো। তাই অনেকেই আগে থেকেই ভয় পায়, ভাবতে থাকে আমি গিয়ে জ্বালাবো।’ তবে নিজের পেশাদারিত্ব নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাঁধন বলেন, ‘যারা আমার সঙ্গে কাজ করেছে, তারা অবশ্যই আবার কাজ করতে চাইবে। বিশেষ করে যারা প্রফেশনাল, তারা জানে আমি কেমন। দূর থেকে অনেকেই ভুল ধারণা করে, কিন্তু কাছ থেকে কাজ করলে সেটা বদলে যায়।’ একসময় কাজ না পাওয়ার কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর প্রায় দেড় বছর আমার কোনো কাজ ছিল না। মানে আমি কাজ করিনি না; আমি কাজ পাইনি। এই সময়টা আমার জন্য খুব স্ট্রেসফুল ছিল, ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। এমনকি ওজনও বেড়ে গিয়েছিল প্রায় ২০ কেজি—আমি ৭৮ কেজি হয়ে গিয়েছিলাম, এখন ৫৮।’ এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করেছে আত্মপ্রেরণা, ‘একটা সেলফ মোটিভেশন তো ছিলই, আরেকটা বড় মোটিভেশন এসেছে রুবায়েত হোসেন–এর একটা সিনেমা থেকে। উনি ফোন করে বললেন, একটা ক্যারেক্টার আছে, তুমি কি করতে চাও? আমি তো সঙ্গে সঙ্গে রাজি। কিন্তু তখন আমি বেশ মোটা, কীভাবে করব ভাবছিলাম। উনি বললেন ক্যারেক্টারটা একটু চাবি হলেও, কিছুটা ওজন কমাতে পারলে ভালো হয়। তখন থেকেই শুরু করলাম, এরপর একের পর এক কাজ করছি, আলহামদুলিল্লাহ গত এক বছরে বেশ ভালো কিছু কাজ হয়েছে।’