৪২ জনই উচ্চশিক্ষিত স্বশিক্ষিত দুজন


৪২ জনই উচ্চশিক্ষিত স্বশিক্ষিত দুজন
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হতে যাওয়া ৪৯ জনের মধ্যে ৪২ জনই উচ্চশিক্ষিত। বাকিদের মধ্যে দুজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্বশিক্ষিত’, একজন এসএসসি এবং দুজন এইচএসসি। পেশায় তাদের কেউ চিকিৎসক, আবার কেউ প্রকৌশলী। আছেন আইনজীবী, রয়েছেন গৃহিণীও। বয়সের ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় পার্থক্য। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৮৪ বছরের প্রবীণ রাজনীতিকও। আছেন ৩১ বছর ৭ মাস বয়সি তরুণ প্রার্থীও। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৪৭ জন প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আরও জানা যায়, সংরক্ষিত নারী সংসদ-সদস্য হতে যাওয়া অনেকেরই রয়েছে বিত্তবৈভব। কয়েকজন ব্যক্তিগতভাবে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক। বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ আমলে মামলা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই মামলা প্রত্যাহারও হয়েছে। সম্পদ ও মামলাসংখ্যা বেশি হওয়ার দিক বিবেচনায় বিএনপির মনোনীতরা জামায়াত জোটের প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। নারী হওয়ায় প্রত্যেকেরই কমবেশি স্বর্ণালংকার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গহনা রয়েছে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীর। তার নিজ নামেই স্বর্ণ রয়েছে ৫০২ ভরি। জাতীয় সংসদের ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৯ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের মধ্যে ৩৬ জন বিএনপি জোটের, ১২ জন জামায়াত জোটের এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য জোটের প্রার্থী। নিয়ম অনুযায়ী তারা সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। শুধু ইসির ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। জামায়াত জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিনি এ যাত্রায় ছিটকে পড়েছেন। তবে প্রার্থিতা বাতিল করে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ তার আপিল করার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনে ৪৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও ইসির ওয়েবসাইটে ৪৭ জনের হলফনামা প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রায় ১৩ কোটি টাকা মূল্যমানের সম্পদ রয়েছে। তবে আয়কর রিটার্নে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার ৬৩ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। পেশায় আইনজীবী এ রাজনীতিকের বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা হয়েছিল। তার ওইসব মামলা প্রত্যাহার করেছে সরকার। তার ৫০২ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে, যা তিনি উপহার পেয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ রাজনীতিক। তার বয়স ৮৪ বছর সাত মাস। এমএ পাশ করা এ রাজনীতিকের সম্পদ রয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩৭ টাকার। এ সংসদে সবচেয়ে কম বয়সে নারী সংসদ-সদস্য হতে যাচ্ছেন মানসুরা আক্তার। ৩১ বছর ৭ মাস বয়সি এ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। তিনি এখনো শিক্ষার্থী। তার নামে আগে একটি মামলা হয়। তবে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। ৩২ বছর বয়সে সংসদ-সদস্য হতে যাওয়া আরেক প্রার্থী সানসিলা জেবরিন। পেশায় চিকিৎসক এ প্রার্থীর সম্পদ ৬৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার। বিএনপির অন্য প্রার্থীদের মধ্যে শিরীন সুলতানার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা ছিল। এমএসএস পাশ এ প্রার্থীর পেশা ব্যবসা। তার সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি টাকার বেশি। রাশেদা বেগম হীরার বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল। এমফিল করা এ প্রার্থীর সম্পদ রয়েছে দেড় কোটি টাকার। তিনি আগেও সংসদ-সদস্য ছিলেন। তবে নিলোফার চৌধুরী মনির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তথ্য নেই। এমএসএস পাশ করা এ প্রার্থীও আগে সংসদ-সদস্য ছিলেন। পেশায় তিনি আইনজীবী উল্লেখ করেছেন। বিএনপির আরেক প্রার্থী হেলেন জেরিন খানের বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১১টি। এমএ পাশ করা এ প্রার্থীর সম্পদ ৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার। বিএনপি প্রার্থীদের বেশির ভাগ উচ্চশিক্ষিত হলেও দুজন স্বশিক্ষিত। তাদের একজন জীবা আমিনা খান। ৬৩ বছর ১০ মাস বয়সি এ প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ রয়েছে। যদিও তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল ৯টি। তার সম্পদের পরিমাণ ৮০ লাখ টাকা। আরেক প্রার্থী মমতাজ আলোও নিজেকে স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। পেশায় রাজনীতিক ও সমাজসেবক এ প্রার্থীর সম্পদ ৭২ লাখ টাকার। আরেক প্রার্থী সাবিরা সুলতানা নিজেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান। আগে আরও আটটি মামলা ছিল। তার সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার। কোটি টাকা সম্পদ রয়েছে বিএনপির এমন প্রার্থীর মধ্যে আরও আছেন সানজিদা ইসলাম (তুলি), সুলতানা আহমেদ, আন্না মিনজ, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হোসাইন, জহরত আদিব চৌধুরী, ফাহিমা নাসরিন ও শওকত আরা আক্তার। জামায়াত জোট : বিএনপির তুলনায় জামায়াত জোটের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা নেই বললেই চলে। তাদের সম্পদের পরিমাণও কম। তবে যাদের উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে, তাদের একজন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। তার নামে কেরানীগঞ্জে ৬৭৬ শতাংশ জমি আছে। কেনার সময় যার মূল্য ছিল ১৪ লাখ টাকা। আয়কর রিটার্নে ২৯ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৭ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। ৬৭ বছর বয়সি এ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ। তার বিরুদ্ধে মামলা নেই, আগেও ছিলও না। পেশা শিক্ষক এ প্রার্থীর বছরে আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ জোটের আরেক প্রার্থী মারজিয়া বেগমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাশ। তার নামে মামলা নেই। পেশায় গৃহিণী। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। উপহারের ৮ ভরি স্বর্ণ আছে। আয়কর রিটার্নে তিনি ৮৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। সাবিকুন্নাহার জামায়াত জোটের সব থেকে বেশি ধনী প্রার্থী। তার বয়স ৫৩ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি। মামলা নেই। পেশা আইনজীবী। বছরে ভাড়া পান ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৬ টাকা। স্বর্ণালংকার রয়েছে ১৩ ভরি। আয়কর রিটার্নে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৬ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৯৫ টাকা। আরেক প্রার্থী সাজেদা সামাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। তার নামে একটি মামলা ছিল। বর্তমানে কোনো মামলা নেই। পেশা গৃহিণী। তার স্বর্ণালংকার আছে ২৫ ভরি। আয়কর রিটার্নে ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১২৪ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। এনসিপি নেত্রী মাহমুদা আলম মিতু ৩৭ বছর বয়সে সংসদ-সদস্য হচ্ছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস পাশ। তার নামে কোনো মামলা ছিল না, বর্তমানেও নেই। পেশায় চিকিৎসক। শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক হিসাবে বছরে আয় করেন ৩ লাখ টাকা। নিজের হাতে নগদ টাকা আছে ২৮ লাখ ৪০ হাজার। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৫ টাকা। বিভিন্ন সময়ে উপহারের ৩০ ভরি স্বর্ণ আছে। আরেক প্রার্থী ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে কখনো মামলা ছিল না, এখনো নেই। পেশা আইনজীবী। আয়কর রিটার্নে তিনি ৬৭ লাখ ২৯ হাজার ১৯৩ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্যদের প্রার্থী সুলতানা জেসমিনও ৩৪ বছর বয়সে সংসদ-সদস্য হতে যাচ্ছেন। স্নাতক পাশ এ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে পাঁচটি মামলা হয়। সব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। স্বর্ণালংকার রয়েছে ১৭ ভরি। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।