ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজিবির ওপর মব চালিয়ে পিকআপ ভর্তি জব্দকৃত পণ্য নিয়ে গেল চোরাকারবারিরা
মো: রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় চোরাইপণ্যবাহী একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করার পর সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি ও তাদের সমর্থকদের তৈরি করা মবের মুখে সেটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল ৩রা জুন, বুধবার বিকেলে উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে বাহিনীটি।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে আনা বিভিন্ন চোরাইপণ্য নয়নপুর বাজারের একটি গুদামে মজুত রাখা হয়েছিল। পরে সেসব পণ্য বিভিন্ন স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে বিজিবি সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে একটি পিকআপ ভ্যানে করে পণ্য পরিবহনের সময় সেটি জব্দ করেন।
অভিযানের পর চোরাকারবারিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পিকআপে থাকা পণ্য বৈধ। তারা জব্দ করা গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিজিবির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলে আরও লোকজনকে জড়ো করে একটি মব তৈরি করা হয়। উপস্থিত জনতার সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েন।
একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও সম্ভাব্য রক্তপাত এড়াতে বিজিবি জব্দ করা পিকআপ ভ্যানটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
এ বিষয়ে বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শফিউল ইসলাম বলেন, “চোরাকারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে জব্দকৃত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। রক্তপাত এড়াতে বাধ্য হয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি চোরাচালান কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের তৎপরতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বাধা দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
