পাকিস্তানে আফগানিস্তানের পাল্টা বিমান হামলা, সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ
অনলাইন নিউজ ডেক্স
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের গণমাধ্যম দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়, যার জেরে সীমান্তে শুরু হয় তীব্র সংঘর্ষ।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান, সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যার পর দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। জানা গেছে, এর আগের সপ্তাহে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তান সীমান্ত বরাবর বিমান হামলা চালিয়েছিল। ওই সময় ইসলামাবাদ দাবি করে, তাদের হামলায় অন্তত ৭০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে আফগানিস্তান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ সাধারণ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল হয়ে ওঠে। কিছুদিন পরই পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের বড় শহরগুলোতে রাতভর বোমা হামলা চালায়, যার জবাবে আফগানিস্তানও পাকিস্তানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আবার পাল্টা হামলা চালায়। দুই পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় তিন শতাধিক সামরিক ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও নিহতের সংখ্যা নিয়ে দুই দেশের তথ্যে গরমিল রয়েছে এবং তা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুরনো বিরোধ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে নিয়মিত আত্মঘাতী হামলা চালায়। অন্যদিকে আফগান তালেবান প্রশাসন এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের বিমান হামলাকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে এই ধারাবাহিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
