ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ নদীতে ফেলছেন কৃষক, এমপি ব্যস্ত সংসদে ‘তারেক বন্দনায়’
অনলাইন নিউজ ডেক্স
হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ফলানো খেতের ফসল বিক্রি করতে না পেরে, নদীতে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক, অথচ একই এলাকার সংসদ সদস্য ব্যস্ত সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ও বিএনপি পরিবারের সাফাই গাওয়া নিয়ে!
মাঠের পর মাঠ জুড়ে কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রমের ফসল পেঁয়াজ, অথচ বাজারে গেলে পাওয়া যাচ্ছে না ন্যায্যমূল্য। কষ্ট করে ফলানো সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে ক্ষোভে-দুঃখে হড়াই নদীতে ফেলে দিচ্ছেন রাজবাড়ীর অসহায় কৃষকেরা।
রাজবাড়ীর হাট-বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম না পেয়ে লাখ লাখ চাষির ঘরে কান্নার রোল আর হাহাকার। মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সংকট যখন চরমে, তখন জনগণের ভোটে “নির্বাচিত” জনপ্রতিনিধি সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা এড়িয়ে রাজনৈতিক বন্দনায় (স্থানীয়দের ভাষ্য মতে তেলবাজি) মেতে উঠেছেন বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
সৌজন্যে: জাগো নিউজ ২৪ ডটকম
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে রাজবাড়ী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ তার নির্ধারিত ৮ মিনিটের বক্তব্যের দীর্ঘ ৬ মিনিটই ব্যয় করেছেন বিএনপি পরিবার ও দলের প্রধান তারেক রহমানের গুণকীর্তনের পেছনে।
এলাকার অসহায় কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার মৌলিক অধিকারের কথা না বলে, বক্তব্যের সিংহভাগ সময় রাজনৈতিক প্রশংসায় কাটিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজবাড়ীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে জুটেছে কেবলই লোকসানের বোঝা।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সেই হিসেবে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা। অথচ বর্তমান বাজারে সেই পেঁয়াজ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম মিলছে মাত্র ১৭ থেকে ২০ টাকা!
সৌজন্যে: বিডি নিউজ ২৪ ডটকম
হাটে পেঁয়াজ নিয়ে গিয়ে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামও না পেয়ে কৃষকেরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। দেনার দায়ে জর্জরিত কৃষকদের এই অমানুষিক পরিশ্রমের যেন কোনো মূল্যই নেই বাজারে। লোকসানের তীব্র জ্বালা সইতে না পেরে অনেক কৃষক হাটে পেঁয়াজ বিক্রি না করে স্থানীয় হড়াই নদীতে ফেলে দিচ্ছেন, যার অসংখ্য মর্মস্পর্শী ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হাটে গিয়ে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও প্রশাসনের চরম উদাসীনতার ওপর তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। এই চরম সংকটের সময়েও সরকার-প্রশাসনের টনক নড়ছে না।
পেঁয়াজ চাষিদের রক্ষায়, সিন্ডিকেট ভাঙতে কিংবা সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পেঁয়াজ কেনার দাবি তোলার মতো রাজপথে নেই কেউ, সংসদে থেকেও নেই।
এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, যে কৃষক-জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেছেন নেতারা, সেই কৃষকদের পক্ষে না দাঁড়িয়ে সংসদের নেতার বন্দনায় সময় অপচয় করা অত্যন্ত দুঃখজনক। কৃষকের এই চরম বিপর্যয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার মতো কি আসলেই কেউ নেই—এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।
