৫৫ লাখ গ্রাহক ২৬৪ কোটি টাকার ফাঁদে: প্রিপেইড মিটার ভাড়া নিয়ে বিএনপির প্রচারণা ছিলো গুজব


৫৫ লাখ গ্রাহক ২৬৪ কোটি টাকার ফাঁদে: প্রিপেইড মিটার ভাড়া নিয়ে বিএনপির প্রচারণা ছিলো গুজব
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চরম উত্তাপের মাঝেই গত ৩রা জুন সরকারি দল বিএনপির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে একটি স্বস্তির খবর প্রচার করা হয়—”সরকার প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।” কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। খোদ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কিংবা কোনো বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিই এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছুই জানে না। ফলে সরকারি দলের এই প্রচারণাকে ‘অপপ্রচার’ ও সাধারণ মানুষের সাথে এক ধরণের ‘বিভ্রান্তি’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিটার ভাড়া বাতিলের কোনো সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়নি। ৪ঠা জুন বিকেলেও রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা আমেনা মুক্তা এবং ডিপিডিসির গ্রাহক নাজিমুল ইসলামসহ একাধিক গ্রাহক মিটার রিচার্জ করার পর আগের মতোই ভাড়া কাটার প্রমাণ পেয়েছেন। গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রকাশ করে আমেনা মুক্তা বলেন, “ভাড়া কাটা তো কোনোদিনই বন্ধ হয়নি।” বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৫৫ লাখ গ্রাহকের ঘরে প্রিপেইড মিটার রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গেল ফেইজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেইজ মিটারের জন্য ৪২ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। এর সাথে প্রতি কিলোওয়াটের জন্য আবাসিক গ্রাহককে দিতে হয় ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ (৫ কিলোওয়াটের লাইনে ডিমান্ড চার্জ ২১০ টাকা)। এই দ্বিমুখী খরচে গ্রাহকদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র অসন্তোষ চলছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিভ্রান্তির সূত্রপাত মূলত গত ২৯শে মার্চ বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক থেকে। সেখানে মিটার ভাড়া প্রত্যাহারের একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যা যাচাই-বাছাই ছাড়াই সরকারি দল বিএনপির অফিসিয়াল পেজে প্রচার করা হয়। বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রিপেইড মিটারের প্রকল্পগুলো মূলত বিদেশী বা অভ্যন্তরীণ ঋণের অর্থে বাস্তবায়িত। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া এই মিটার ভাড়া দিয়েই সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়। সারাদেশে ৫৫ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার ভাড়া বাবদ মাসে আদায় হয় প্রায় ২২ কোটি টাকা, যা বছরে দাঁড়ায় ২৬৪ কোটি টাকা। এখন হুট করে মিটার ভাড়া তুলে দিলে এই বিশাল অংকের ঋণের দায় কে নেবে, তা নিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যা বলছে বিদ্যুতের দাম, মিটার ভাড়া বা ডিমান্ড চার্জ নির্ধারণের আইনি এখতিয়ার বিইআরসি-র। অথচ সংস্থাটির কাছে বিতরণ কোম্পানিগুলো এমন কোনো আবেদনই করেনি। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মিটার ভাড়া তুলে দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোনো আবেদন করেনি। ২০১৭ সালে সরকারের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই প্রিপেইড মিটার প্রকল্প ও ভাড়া নেওয়া চালু হয়। সরকার যদি এই প্রকল্পের ঋণের টাকার দায় নেয় এবং সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে, তবেই কেবল এটি বন্ধ হওয়া সম্ভব। এটা সম্পূর্ণ সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপার।” কোনো ধরণের দাপ্তরিক আদেশ বা ঋণের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই রাজনৈতিক ফায়দা নিতে সরকারি দলের পেজ থেকে এমন প্রচার চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে হুট করে দেওয়া এই রাজনৈতিক ঘোষণা এখন সাধারণ গ্রাহকদের মনে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সর্বশেষ :

ভারত থেকে ২০০ রেলকোচ ক্রয়: শেখ হাসিনা সরকারের করা চুক্তি বাতিল নয়, বাস্তবায়ন করছে বিএনপি, এ মাসেই আসছে ২০টি কোচ   ভারত থেকে ২০০ রেলকোচ ক্রয়: শেখ হাসিনা সরকারের করা চুক্তি বাতিল নয়, বাস্তবায়ন করছে বিএনপি, এ মাসেই আসছে ২০টি কোচ ঋণ খেলাপিদের ১ লাখ কোটি টাকা সুদ মওকুফ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের সমালোচনা   ঋণ খেলাপিদের ১ লাখ কোটি টাকা সুদ মওকুফ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের সমালোচনা সাবেক প্রধান বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি পেছাল   সাবেক প্রধান বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি পেছাল যা-ই ঘটুক না কেন, মাথা উঁচু করে বিদায় নেব: রোনালদো   যা-ই ঘটুক না কেন, মাথা উঁচু করে বিদায় নেব: রোনালদো নাহিদের রেকর্ড ম্লান, হারারেতে বেহাল ব্যাটিংয়ে হারল বাংলাদেশ   নাহিদের রেকর্ড ম্লান, হারারেতে বেহাল ব্যাটিংয়ে হারল বাংলাদেশ ইয়ামাল: মুসলিম হওয়ায় আমি শরীরে ট্যাটু আঁকাতে পারব না   ইয়ামাল: মুসলিম হওয়ায় আমি শরীরে ট্যাটু আঁকাতে পারব না প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনায় রাজনীতির চর্চা: বাধ্যতামূলক হচ্ছে জিয়া পরিবারের ৩ বই   প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনায় রাজনীতির চর্চা: বাধ্যতামূলক হচ্ছে জিয়া পরিবারের ৩ বই পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলিতে নিহত ৩   পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলিতে নিহত ৩