আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি!
অনলাইন নিউজ ডেক্স
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে স্থানীয় পুলিশ।
আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার ৭৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই শুধু ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—দুই দেশের এই বৈরিতাকে আরও গভীর করেছে। ফলে প্রতিবারের মতো এবারও ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।
স্থানীয় প্রশাসনের উদ্বেগের একটি বড় কারণ ফিফার টিকিট বণ্টন পদ্ধতি। সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিটের কারণে দুই দলের বিপুলসংখ্যক সমর্থক একই গ্যালারিতে পাশাপাশি বসবেন। আলাদা সমর্থক জোন না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় স্টেডিয়াম ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
এরই মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে খেলোয়াড়দের একটি গান গাওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে জড়াতে নারাজ আর্জেন্টিনা শিবির।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, “এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ। আমরা একজন দুর্দান্ত কোচের অধীনে থাকা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছি। মাঠের বাইরের কোনো বিষয় নয়, আমাদের পুরো মনোযোগ কেবল খেলায়।”
একই সুর শোনা গেছে মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “অনেকে এই ম্যাচের সঙ্গে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ বা ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। কিন্তু আমরা সেসব নিয়ে ভাবছি না। আমাদের লক্ষ্য শুধুই ফুটবল এবং সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে ওঠা।”
