হরিণাকুণ্ডুতে উৎসবের আমেজে ভাসছে সনাতনীরা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবের আমেজে ভাসছে সাংস্কৃতিক উপজেলা হরিণাকুণ্ডুতে। উৎসবের দিনগুলো যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা ও উদ্দীপনা। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসছেন কারিগররা, আর তার পরপরই শুরু হচ্ছে অলংকরণ ও রঙিন সাজসজ্জা।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে দেখা গেছে চমৎকার সব প্রস্তুতি। বিভিন্ন মণ্ডপে দেবী দুর্গা ও তার সন্তান দেবী লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক এবং গণেশের প্রতিমায় কারিগরদের নিপুণ তুলির ছোঁয়া চলছে। মাটির কাজ শেষ করে এখন চলছে রঙের প্রলেপ আর চোখ আঁকার নিখুঁত কাজ। প্রতিমার গায়ে দেওয়া হচ্ছে বর্ণিল সাজ ও নতুন বস্ত্র। শুধু প্রতিমা তৈরিই নয়, প্রতিটি মণ্ডপকে দৃষ্টিনন্দন করতে আলোকসজ্জা, তোরণ নির্মাণ ও আধুনিক প্যান্ডেল তৈরির কাজও জোরকদমে এগিয়ে চলছে।
মন্ডপে কারিগর বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানান, আমি গত ১০-১২ বছর এই প্রতিমা তৈরীর কাজ করছি। উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছি। মাটির নিখুঁত গড়ন থেকে শুরু করে গায়ে অলঙ্কার পরাণো—সবকিছুতেই রয়েছে ঐতিহ্যের ছাপ। শিল্পীরা আরো বলেন, প্রতিমার গায়ে রেশমি আলো এবং রঙের মেলবন্ধন মণ্ডপগুলোতে এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করেছে।
হরিণাকুণ্ডুর ঐতিহ্যবাহী চিথলিয়াপাড়া, ঋষি পাড়া, হরিণাকুণ্ডু বাজার, হিংগারপাড়া, রিশখালী, সোনাতনপুর, কেসমত ঘোড়াগাছা, পৌলানপুর, ভাদড়া, ভবানীপুর, বাকচুয়া, জোড়াদাহ, ভায়না সহ উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে পূজারি ও আলোকচিত্রীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের কৌতূহলী আনাগোনা। সার্বজনীন এই উৎসবে যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে নিবিড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শাখার সদস্য সচিব উজ্জ্বল কুমার সাধুখাঁ সাংবাদিকদের জানান, হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে এবছর ৩ টি মণ্ডপ বেড়েছে। আমাদের পূজা উদযাপনের কার্যক্রম প্রাই শেষের পথে।
এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গা উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ্ত রায় দীপন সাংবাদিকদের জানান, এই উপজেলাতে মোট ত্রিশটি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হবে। ইতিমধ্যে পুজা মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। নিছিদ্র নিরাপত্তার খাতিরে পুজামণ্ডপগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। মাদক মুক্ত, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিহত করতে মাঠে থাকবেন উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।
