বিজ্ঞাপনের জন্য নয়, খেলার স্বার্থেই হাইড্রেশন বিরতি দেওয়া হচ্ছে: ইনফান্তিনো
অনলাইন নিউজ ডেক্স
বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের পানি পানের বিরতি (হাইড্রেশন ব্রেক) দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এই সিদ্ধান্ত কেবল খেলার মাঠের কথা চিন্তা করেই নিয়েছে, এর পেছনে কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নেই।
চলতি টুর্নামেন্টে প্রতি ম্যাচের ২২ এবং ৬৭ মিনিটে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের এই বিরতি দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম পর্বের ম্যাচগুলো থেকেই এই নিয়ম নিয়ে খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে খেলোয়াড়রা যাতে মানিয়ে নিতে পারেন, সেজন্যই এই বিরতির নিয়ম আনা হয়। তবে এর ফলে খেলা সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলো বাড়তি বিজ্ঞাপনের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে।
এটি নিয়ে ফুটবল মহলে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক দর্শকই অভিযোগ করেছেন যে, তিন মিনিটের এই বিরতির সময় তাদের জোর করে বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘এর ফলে ফিফার বাড়তি কোনো আয় হচ্ছে না, কারণ সব ব্যবসায়িক চুক্তি অনেক আগেই হয়ে গেছে। তাই এটি আমাদের কাছে কোনো আর্থিক বিষয় নয়। আমাদের কাছে এটি পুরোপুরি খেলার মাঠের একটি সিদ্ধান্ত।’
এই বিরতির সুযোগে কোচরা ম্যাচের মাঝখানেই খেলোয়াড়দের নতুন কৌশল বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সমালোচকদের মতে, এর ফলে ম্যাচের গতি নষ্ট হচ্ছে এবং ফুটবলের স্বাভাবিক রূপটাই বদলে যাচ্ছে।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল বলেন, এই বাড়তি বিরতিটি ‘ম্যাচের গতি নষ্ট করে এবং ফুটবলের নিজস্ব ছন্দ বদলে দেয়।’ অন্যদিকে উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা মনে করেন, ম্যাচকে এভাবে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করলে ফুটবলের মূল চরিত্রটাই হারিয়ে যায়।
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক প্রচণ্ড গরমে এই নিয়মের উদ্দেশ্যকে সমর্থন করলেও, অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা আবহাওয়া বা ছাদ ঢাকা স্টেডিয়ামে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘এর প্রধান কারণ হলো গরম। তবে আমাদের এটাও বুঝতে হবে যে, বিশ্বকাপের মতো একটি টুর্নামেন্ট ৩৯ দিন ধরে চলে। যেখানে দলগুলোকে এই ৩৯ দিনে হয়তো আটটি ম্যাচও খেলতে হতে পারে। তাই একটু বিশ্রামের সুযোগ পাওয়াটা খুবই দরকার।’
‘আমাদের কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এটা নিশ্চিত করা যেন প্রতিটি ম্যাচে সব দল একই রকম কন্ডিশনে খেলার সুযোগ পায়।’
ফিফা সভাপতি আরও যোগ করেন, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন যে—কেবল গরম বেশি বলে একজন কোচ ম্যাচে বদল এনে প্রভাব খাটাতে পারবেন, অথচ অন্য ম্যাচে তাপমাত্রা একটু কম থাকায় সেই একই কোচ আর সেই সুবিধা পাবেন না।’
ইনফান্তিনো দাবি করেন, এই বিরতির কারণে ম্যাচের তীব্রতা কমেনি, বরং এর ফলে খেলোয়াড়রা পুরো ম্যাচ জুড়েই তাদের সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারছেন।
