প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬

কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে নাইজেরিয়ায় ইবোলা, বাড়ছে উদ্বেগ


কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে নাইজেরিয়ায় ইবোলা, বাড়ছে উদ্বেগ
আফ্রিকার চারটি দেশে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাইজেরিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে অসুস্থ হওয়ার ১৩ দিন পর তার শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের শনাক্ত করা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে নাইজেরিয়া থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) প্রথম এই প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়। এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। নাইজেরিয়ায় রোগী শনাক্ত হওয়ার আগে উগান্ডা ও কেনিয়াতেও সংক্রমণ ছড়ায়। মঙ্গলবার নাইজেরিয়ায় রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আফ্রিকায় এই প্রাদুর্ভাবের বিস্তৃতি আরও বেড়েছে। আক্রান্ত নারী উগান্ডায় জন্মগ্রহণকারী এক সুইস কূটনীতিকের স্ত্রী। আফ্রিকার শীর্ষ জনস্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (আফ্রিকা সিডিসি) মহাপরিচালক জ্যঁ কাসেয়া রয়টার্সকে জানান, দুই সপ্তাহের ছুটি কাটিয়ে গত ৩ অক্টোবর তিনি নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় পৌঁছান। আবুজা দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও যাতায়াতকেন্দ্র। কাসেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দেশটিতে পৌঁছানোর তিন দিন পর ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে ম্যালেরিয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। পরে তিনি কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে যান। তবে ১৯ অক্টোবর তার ইবোলা পরীক্ষা করা হয়। ‘এখন কেউই নিরাপদ নয়’ কাসেয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা তৈরির সময় নাইজেরিয়া সেখানে ছিল না। কিন্তু এখন দেশটিকে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তার মতে, উত্তর ও দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোরও ঝুঁকি নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এখন আমাদের বিবেচনা করতে হবে, কেউই নিরাপদ নয়।” দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ায় ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা কঠিন হবে বলে সতর্ক করেন কাসেয়া। ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তার শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শে এলে অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। কাসেয়া বলেন, ওই নারী প্রায় দুই সপ্তাহ পরীক্ষা ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেছেন। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সংস্পর্শে এসেছেন। ফলে তাদের সবাইকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ৪৪ জনকে ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে ইবোলা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের বান্দিবুগিও প্রজাতি। এ প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। শুধু কঙ্গোতেই এ প্রাদুর্ভাবে ৯ হাজার ৫০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি মারা গেছেন। ‘সংক্রমণ এখনো শেষ হয়নি’ গত মে ও জুনে উগান্ডায় ২০ জনের ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তাদের বেশির ভাগই কঙ্গো থেকে সংক্রমিত হয়েছিলেন। পরে আগস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে। উগান্ডার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত ওই নারী উগান্ডায় যাওয়ার আগে পূর্ব কঙ্গো সফর করেছিলেন। তবে নাইজেরিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই নারীর কঙ্গো সফরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য তাদের কাছে নেই। নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ আলী পাতে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, “আমাদের দেশে শনাক্ত হওয়া রোগীর কঙ্গো সফরের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তাই আমরা ধারণা করছি, তিনি সম্ভবত উগান্ডায় সংক্রমিত হয়েছেন।” কাসেয়া জানান, এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পেতে আফ্রিকা সিডিসি কঙ্গো ও উগান্ডার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ওই নারীর সঙ্গেও যোগাযোগ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইবোলা জরুরি কমিটির সদস্য ও ডাচ ভাইরোলজিস্ট মারিয়ন কুপম্যানস বলেন, ওই নারী কঙ্গোতে গিয়েছিলেন কি না, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ওই নারী কঙ্গো সফর করে থাকলে সীমান্ত ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে। আর কঙ্গোতে না গিয়ে থাকলে উগান্ডায় কীভাবে তিনি সংক্রমিত হলেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কুপম্যানস বলেন, “যেভাবেই হোক, এটি নিশ্চিত করছে যে সংক্রমণ এখনো শেষ হয়নি।” নাইজেরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় দেশটি সফলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিল। তাই এবারও রোগ নিয়ন্ত্রণে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে নাইজেরিয়ার চিকিৎসক ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগবিষয়ক জি৭ কমিটির সহসভাপতি আয়োডে আলাকিজা এ দাবির সঙ্গে ভিন্ন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ২০১৪-২০১৬ সালের প্রাদুর্ভাবের সময় লাইবেরিয়া থেকে নাইজেরিয়ায় আসা প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। আলাকিজা বলেন, “এবারের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা।”