প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬

স্থিতিশীলতা রক্ষায় সতর্ক থাকতে হবে


স্থিতিশীলতা রক্ষায় সতর্ক থাকতে হবে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের পর মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা করছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক সংবাদ। তবে এ অর্জন ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে। নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বেড়েছে। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচন ছিল অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসরও বেড়েছে। এসব তথ্য দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে আরও কিছু ইতিবাচক বিষয় উঠে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন অপেক্ষাকৃত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাজের সুযোগ বেড়েছে। সাধারণ মানুষও রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে পারছে। আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা বহু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অনেক বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক করতে সহায়ক হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা কমে যাওয়ার অর্থ সব সংকটের অবসান নয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংঘাতের পেছনে রয়েছে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পত্তি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা। এমন প্রবণতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সংঘাত অনেক সময় বড় রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া চলবে না। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দেশি ও বিদেশি নানা স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত অগণতান্ত্রিক শক্তির সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তারা রাজনৈতিক বিভেদ, অপপ্রচার কিংবা সহিংসতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির যে ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। তবে একটি তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ইতিবাচক মূল্যায়নই স্থায়ী স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা নয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশ অনেক ত্যাগের বিনিময়ে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। সেই সম্ভাবনা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন সুরক্ষিত রাখতে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে সচেতন থাকতে হবে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে। শান্তি, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হোক নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।